ইরান যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান উত্তেজনায় ঝুঁকিতে পড়েছে দেশের রপ্তানি খাত। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে পোশাক রপ্তানিতে সংকট তৈরি হয়েছে। রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই বাজার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সংকট মোকাবিলায় নতুন বাজার খোঁজার পাশাপাশি রপ্তানি বহুমুখীকরণের তাগিদ দিচ্ছেন বিশ্লেষকদের।
গত অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয়েছে তার মধ্যে ৮৯ শতাংশই ছিল তৈরি পোশাক। ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর বন্ধ হয়ে যায় হরমুজ প্রণালি। ফলে বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো- ইপিবি'র তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে গত মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে ৬৬ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে। যুদ্ধের মূল ক্ষেত্র ইরানে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮১ লাখ ডলারের কিছু বেশি।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে কিছুটা প্রবৃদ্ধি থাকলেও, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে পোশাক রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিজিএমইএ'র সহ-সভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বলেন, 'বড় ধরণের কোনো ইমপ্যাক্ট (প্রভাব) এখনও হয় নাই। কিন্তু বাজারটা স্থবির আছে। এটার মাইনাস যে প্রভাবটা সেটা আরও কয়েকদিন পরে বোঝা যাবে। নতুন বাজারগুলোকে টেকসই করার জন্য প্রণোদনাটা না কমিয়ে (যদি) আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে আসে, সেক্ষেত্রে দেখা যাবে যে, রপ্তানিকারকরা এধরনের বাজারে কাজ করতে চাইবে।'
বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে হলে নতুন বাজার খোঁজার বিকল্প নেই। পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ এম আবু ইউসুফ বলেন, 'আরএমজি'র (রেডিমেড গার্মেন্টস) বাইরে আমাদের যে লেদার আছে, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং আছে, হোম টেক্সটাইলস আছে, ফার্মাসিউটিক্যালস আছে, এ রকম খাতগুলোতেও যদি আমরা কিছু পলিসি সাপোর্ট বা তাদেরকে কীভাবে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া যায়, আমরা কাজ করতে পারলে, রপ্তানিতে যাতে আমরা ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারি সে লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে।'
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি অনিশ্চয়তায় দেশের শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। একইসঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ।