চলতি মাসের প্রথম ৯ দিনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১০২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, মে মাসের প্রথম নয়দিনে প্রবাসীরা প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি ৪৩ লাখ ডলার করে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন - যা এপ্রিলের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।
এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাসে দেশের প্রবাসী আয় ৩৫০ কোটি ডলার অতিক্রম করতে পারে।
সাধারণত ঈদ ও রমজানের মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। মার্চে ঈদুল ফিতরে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন বা ৩৭৫ কোটি ডলার। এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। আইএমএফ-এর হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের বর্তমান রিজার্ভ ২৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৭ মে দেশে ঈদুল আজহা পালিত হবে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মে শেষে আবারো সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করবে প্রবাসী আয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত একক মাস হিসেবে ছয়বার ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছে। ২০২৫ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো বৈধপথে ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন বা ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে। আর ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার। এরপর চলতি বছরের প্রথম মাস তথা জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি, মার্চে ৩৭৫ কোটি ও এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার প্রবাসী আয় দেশে আসে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৩০.৩৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৫.২৫ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
রেমিট্যান্সের এ প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে রিজার্ভের ভিতও মজবুত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশের বর্তমান গ্রস রিজার্ভ (১০ মে পর্যন্ত) ৩৪.১৪ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফ-এর হিসাবপদ্ধতি (বিপিএম৬) অনুযায়ী, এটি ২৯.৪৭ বিলিয়ন ডলার।