চামড়া শিল্পে ৫০ কোটি ডলারের রপ্তানি সুযোগ হারাচ্ছে বাংলাদেশ

চামড়া শিল্পের মান নির্ণায়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের সনদ না থাকায় নাইকি, অ্যাডিডাসের মতো বড় ব্যান্ডের ক্রয়াদেশ (অর্ডার) পায় না বাংলাদেশের ট্যানারিগুলো। ফলে, চায়নার বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রক্রিয়াজাত চামড়া। 

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক সেমিনারে একথা জানান চামড়া খাতের উদ্যোক্তারা। এ শিল্পের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার তাগিদ ট্যানারি মালিকদের।  

লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ- এলডব্লিউজি সারা বিশ্বের চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলোকে পরিবেশ সংক্রান্ত সনদ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের মাত্র ৮টি চামড়া কারখানার এই সনদ রয়েছে। ফলে দেশের বেশিরভাগ ট্যানারি ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানি করতে পারছে না। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে এক সেমিনারের আয়োজন করে চামড়া শিল্পের ব্যবসায়ীরা। 

ট্যানারি মালিকরা বলেন, এক যুগ পার হয়ে গেলেও এখনও শতভাগ কার্যকর হয়নি সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার। এর ফলে মিলছে না এলডব্লিউজি সনদ। তাই প্রতি বছর প্রায় ৫০ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির সুযোগ হারাচ্ছে দেশ। উদ্যোক্তারা এজন্য দায়ী করছেন সরকারের উদাসীনতাকে। 

এ প্রসঙ্গে ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, 'শুধু ট্যানারি মালিকদের বা আড়তদারদের দোষারোপ করে লাভ নেই। চামড়ার যদি প্রোপার (সঠিক) দাম চান তাহলে চামড়ার মান ঠিক থাকতে হবে। আপনি বাজারে গিয়ে কখনোই পচা মাছটা কিনবেন না, তা সে যে দামেই দিক। সুতরাং আমরা মনে করি যে, এখানে অনেকগুলো সমস্যা আছে, যেগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে।'  

সঠিক পরিকল্পনার অভাবে চামড়া শিল্পে আর্থিক ক্ষতি যেমন হচ্ছে, তেমনি সৃষ্টি হচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের। 

লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের সাবেক অডিটর আফজাল হোসাইন বলেন, 'তিনটা ট্যানারিতে ক্রম রিকভারি ইউনিট পেয়েছি, যারা হয়তো বেনিফিশিয়ারি হচ্ছে বা হবে সামনের দিকে। আমি অনুরোধ করব, প্রত্যেকেই যেন এটা করি। এই ২০ শতাংশ ক্রম ফেলে না দিয়ে আমি যেন পুনর্ব্যবহার করি। অনেক আর্টিকেলে করা যাবে এটা। আমাদের টেকনোলজিস্টরা আছেন, টেকনোলজি পৃথিবীতে আছে। আমি অনুরোধ করব, এটা ব্যবহার করার জন্য।' 

সেমিনারে বরাবরের মতোই সংকট সমাধানের আশ্বাস দেন শিল্প মন্ত্রণালয়য়ের কর্মকর্তারা। 

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নূরুজ্জামান বলেন, 'আমরা যেহেতু লিড মিনিস্ট্রি, এটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে, অন্যান্য মন্ত্রণালয়য়ের সাথে যোগাযোগ করে আপনাদের কাজগুলোকে সহজ করে দেওয়া এবং কীভাবে কাজগুলো সম্পন্ন হবে আমরা সে ব্যবস্থা নিব।' 

সভায় চামড়া শিল্প নগরীতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিতে সোলার প্যানেলের ওপর আলাদা নজর দেওয়ার আহ্বান জানান খাত সংশ্লিষ্টদের।