যে কারণে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায় বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলো

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের পরদিন ভোক্তা পর্যায়ে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশের ৬টি বিতরণ কোম্পানি রাজধানীর কেআ/বি মিলনায়তনে বিইআরসি আয়োজিত গণশুনানিতে এই প্রস্তাবের যৌক্তিকতা তুলে ধরে। 

গণশুনানিতে ওজোপাডিকো জানিয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত খুচরার তুলনায় পাইকারিতে প্রতি ইউনিটে ৮৫ পয়সা দাম বেশি বেড়েছে। এই ঘাটতি মোকাবিলায় ১০ দশমিক ১২ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর আবেদন জানায় সংস্থাটি। 

এদিকে, গত তিন অর্থবছরে ২ হাজার ৬১১ কোটি টাকার বেশি ঘাটতি গুনেছে ডেসকো। আসন্ন অর্থবছরে প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা ঘাটতির শঙ্কা রয়েছে। তাই খুচরা বিদ্যুতের দাম সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে ডেসকো। 

অন্যদিকে, সবচেয়ে বড় বিতরণ সংস্থা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সমিতিগুলোর চলতি অর্থবছরে ঘাটতি ২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। তাই লোকসান এড়াতে গ্রাহক পর্যায়ে ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ঘাটতি মেটাতে বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটে ২৯ পয়সা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। 

গতকাল পাইকারি পর্যায়ে ১৭ থেকে ২১ শতাংশ দাম বৃদ্ধির  প্রস্তাব করেছে পিডিবি। বিতরণ সংস্থাগুলো বলছে, পাইকারি পর্যায়ে দাম ও সঞ্চালন খরচ যেভাবে বাড়বে সেটাও তাদের ঘাটতির সঙ্গে যুক্ত করে গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়াতে হবে। 

দেশে বিদ্যুৎ বিতরণে সিস্টেম লস বা অপচয় ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ। রাজধানীর আরেকটি বড় অংশ ডিপিডিসি তাদের পরিচালন ব্যয় ও ঘাটতি সামাল দিতে গড় খুচরা মূল্যহার ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। চলতি অর্থবছরে তাদের ঘাটতি প্রায় সাড়ে ৭শ কোটি টাকা।