চামড়া শিল্পের উন্নয়নে জুলাইয়ের মধ্যে হবে রোডম্যাপ: বাণিজ্যমন্ত্রী

চামড়া শিল্পের উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জুলাই মাসের মধ্যে একটি রোডম্যাপও তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। 

তবে এমন আশ্বাসে পরিবর্তন কতটুকু হবে, তা নিয়ে সংশয় বিশেষজ্ঞদের। তাদের মতে, অতীতে নানা আশ্বাস দেওয়া হলেও, কাজের কাজ তেমন হয়নি। টেকসই উন্নয়নে আন্তরিকতার পাশাপাশি পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

প্রতি বছর কোরবানির মৌসুম এলেই চামড়া শিল্প নিয়ে আলোচনা হয় সারাদেশে। কাঁচা চামড়ার আড়ত আর ট্যানারি এলাকায় কয়েকদিন পরিদর্শনেও যান সরকারি কর্মকর্তারা। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ে কর্মশালা, মতবিনিময় সভার আয়োজন হয় বেশ চোখে পড়ার মতোই। কিন্তু কয়েকদিন পর আবারও আলোচনা থেমে যায়। 

ঈদের পরদিন পুরান ঢাকার পোস্তা এবং সাভারের আড়ত পরিদর্শন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। পূর্বসূরিদের মতো আশ্বাস দেন চামড়া শিল্পের উন্নয়নে। 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই মাসের মধ্যে চামড়া খাতকে নিয়ে আমরা কি উপায়ে এগুবো তার একটা বিস্তারিত পরিকল্পনা আমরা জাতির সামনে হাজির করব।’

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিল্পের উন্নয়নে সরকারি সহয়তা জরুরি। চামড়া খাতের উন্নয়নে মন্ত্রণালয়কে শুধু নির্দিষ্ট সময় নয়, সারা বছরই আন্তরিক থাকতে হবে। 

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, ‘অবশ্যই সরকারের কাছ থেকে আশানুরূপ রেজাল্ট পাব এবং সেটা শুধু কোরবানি আসলেই নয়। জুলাইয়ের ভেতরে উনি (বাণিজ্যমন্ত্রী) একটা রোডম্যাপ দিবেন, চামড়া শিল্পকে কীভাবে ঠিক করা যায়, কীভাবে কমপ্লায়েন্স করা যায়। আমরা আশাবাদী।’  

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে চামড়া শিল্পের টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনার বিকল্প নেই। উদ্যোগ বাস্তবায়নে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দক্ষ জনবলকে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। 

লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের সাবেক অডিটর আফজাল হোসাইন বলেন, ‘রোগ নির্ণয়ের জন্য একটি টেকনিক্যাল টিম, রোগ সমাধানের জন্য একটি টেকনিক্যাল টিম- দেশিয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুটোকেই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে’ 

এছাড়া পেপার ওয়ার্কের বাইরেও বাস্তবায়নের জন্যেও টেকনিক্যাল লোকের অন্তর্ভুক্তি জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

শিল্পের উন্নয়নে সাভার শিল্প নগরীর সিইটিপি মান উন্নয়নের পাশাপাশি চামড়া সংগ্রহ এবং সঠিক সংরক্ষণেও নজর দেওয়ার তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।