পাঁচ বছরে করমুক্ত আয়সীমা ১ লাখ টাকা বাড়ানোর পরিকল্পনা

দেশের কর ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো দীর্ঘমেয়াদি কর পরিকল্পনা বা ট্যাক্স রোডম্যাপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনায় ২০৩০-৩১ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা বেড়ে দাঁড়াবে সাড়ে চার লাখ টাকা। সে হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে করমুক্ত আয়সীমা ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। 

তবে যারা করমুক্ত সীমার কিছুটা ওপরে থাকবেন, তাদের করের বোঝা বাড়তে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, আগামী অর্থবছরে ৫ শতাংশের কর হারও তুলে দেওয়া হতে পারে। 

উল্লেখ্য, প্রতি বছর বাজেটের আগে করমুক্ত আয়সীমা বাড়বে কিনা, করহার পরিবর্তন হবে কিনা, কিংবা নতুন কোনও কর আরোপ করা হবে কিনা- এসব বিষয় নিয়ে করদাতাদের মধ্যে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। 

তবে এবার সরকার কর ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক এবং বিনিয়োগবান্ধব করতে চাইছে। সেই লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি কর পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় বর্তমানে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার করমুক্ত আয়সীমা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হবে। 

অর্থাৎ, আগামী পাঁচ বছরে করমুক্ত আয়সীমা ১ লাখ টাকা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আগামী দুই অর্থবছর তা বহাল থাকছে। 

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘পাঁচ লাখ টাকা যদি করেন তাহলে আমাদের প্রাইভেট সেক্টর থেকে ডিমান্ড হচ্ছে, এখন প্রত্যেকেই কিন্তু নিজের ঘর ভেঙে, অথবা পুঁজি ভেঙে, অথবা ধার করে তার সংসার চালাচ্ছেন। তাদেরও তো নিশ্বাস ফেলার একটা স্পেস লাগবে।’ 

আগামী অর্থবছরে কর হারেও পরিবর্তন আসবে। করমুক্ত আয়সীমা বাড়লেও যারা সীমার কিছুটা ওপরে থাকবেন, তাদের করের বোঝা কিছুটা বাড়তে পারে। এছাড়া আগামী অর্থবছরে ৫ শতাংশের কর হার তুলে দেওয়া হতে পারে। 

এর পরিবর্তে যাদের বার্ষিক আয় পৌনে চার লাখ টাকার বেশি, তাদের করমুক্ত আয়সীমা পরবর্তী প্রথম তিন লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ হবে। পরবর্তী চার লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পাঁচ লাখ টাকার জন্য ২০ শতাংশ, ২০ লাখ টাকার জন্য ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের জন্য ৩০ শতাংশ হারে করারোপ করা হতে পারে।

বর্তমানে দেশে ১ কোটি ২৮ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী ((টিআইএন)) রয়েছেন। এদের মধ্যে চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করেছেন প্রায় ৪৬ লাখ করদাতা।