ছোট ব্যবসায়ীরাও আসছেন করের আওতায়

দিনে গড়ে সাড়ে ৫ হাজার টাকা বিক্রি, এমন ছোট ব্যবসায়ীরাও আসছেন করের আওতায়। আসছে বাজেটে তাদের ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। মূলত গ্রাম ও মফস্বল এলাকার ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনতেই এই উদ্যোগ। ভ্যাটের পরিধি বাড়াতে এমন পরিকল্পনা এনবিআরের। একই সাথে ব্যবসায়িক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিভিন্ন পরিষেবা পেতে ভ্যাট আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। 

দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যবসাকে রাজস্বের মূল ধারায় যুক্ত করতে ভ্যাট নিবন্ধনের নিয়মে কড়াকড়ি করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর। সে সঙ্গে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও ২০ লাখে উন্নীত করতে চায় সংস্থাটি। 

আগামী অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক টার্নওভারের সীমা ১০ লাখ টাকা কমিয়ে ২০ লাখ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে, দৈনিক গড়ে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা বিক্রি হয়, এমন ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের জন্যও ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হচ্ছে।

এবার ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে বিন বা ভ্যাট আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার বাধ্যতামূলক হচ্ছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের নামে জমি কিংবা গাড়ি নিবন্ধন এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগের জন্যও বিন জমা দেয়া বাধ্যতামূলক হচ্ছে। এছাড়া নতুন নিবন্ধিত ছোট ব্যবসায়ীদের হিসাব নিকাশের জটিলতা দূর করতে প্রায় দেড় দশক পর আবারও ফিরছে প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থা। 

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা মনে করছেন, এসব সিদ্ধান্তের ফলে রাজস্বের পরিধি যেমন বাড়বে, তেমনি ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের কারণে কর ফাঁকি দেয়ার প্রবণতাও কমে আসবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘এসআরও সংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে আসছি। আর লেনদেনগুলো কর ব্যবস্থায় তখনই প্রতিফলিত হবে যদি এগুলো স্বচ্ছ আকারে হয়, তার মানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে যদি হয়। অথ্যাৎ ক্যাশলেস সোসাইটির দিকে যেতে হবে। এ ছাড়া জনগণের হয়রানি কমাতে হবে।’

রাজস্ব আদায়ে ডিজিটাল লেনদেনকে প্রাধান্য দিলেও, আনা হচ্ছে কড়া নজরদারিতে। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে মার্চেন্ট বা পেমেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতেও লাগবে বিন। এতে কত টাকা ভ্যাট আদায় ও জমা হচ্ছে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হবে।