৫ বছর অপরিবর্তিত থাকছে করপোরেট করহার

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন নিশ্চিতে বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত করপোরেট করের বর্তমান হার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে উৎসে করকে ন্যূনতম করের পরিবর্তে অগ্রিম হিসেবে বিবেচনা এবং রপ্তানি প্রণোদনার ওপর কর কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
আগামী ১১ জুন নতুন অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী। এরই মধ্যে গত ১৪ মে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন।

দেশের বিনিয়োগে গতি ফেরানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসায়িক পরিবেশকে সহজ ও আধুনিক করতে আসছে বাজেটে কর কাঠামো পাঁচ বছরের জন্য অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব রেখেছে এনবিআর। তবে যেসব খাতে করের হার কিছুটা বেশি রয়েছে, ধীরে ধীরে সেগুলো কমিয়ে আনা হবে। শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আইবিএফবির সাবেক সভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, 'উদ্যোক্তারা আত্মবিশ্বাস পাচ্ছেন না। প্রতিটি সরকারের সঙ্গে কথা হয়, কিন্তু কাজ হচ্ছে না। কর নীতি ও আদায়ের বিষয়টি সঠিকভাবে সমাধান করতে হবে।'

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারের ব্যবধান ৫ শতাংশই বহাল থাকছে। পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়লে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার হবে ২২.৫ শতাংশ, আর সব লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে হলে তা ২০ শতাংশে নেমে আসবে। অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২৭.৫ শতাংশ, যা সব লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলে করলে ২৫ শতাংশ হবে। ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত হলে করহার সাড়ে ৩৭ শতাংশ এবং অ-তালিকাভুক্ত হলে ৪০ শতাংশ বহাল থাকবে।

ব্যবসার নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়াতে এবং করদাতাদের চাপ কমাতে বাজেটে ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কঠোরতা শিথিল করার প্রস্তাবও রয়েছে। এ ছাড়া অডিটের জন্য মামলা নির্বাচন ও উৎসে কর যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও স্বয়ংক্রিয় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।