কর-জিডিপি অনুপাতে তলানিতে, আএমএফ–কে যা জানাল এনবিআর

কর-জিডিপি অনুপাতে বিশ্বের প্রায় তলানিতে রয়েছে বাংলাদেশ। এমন বাস্তবতায় এনবিআরের সঙ্গে বৈঠক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের প্রতিনিধি দল। এসময় কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে সরকারের পরিকল্পনা ও কৌশল সম্পর্কে জানতে চায় সংস্থাটি। 

বৈঠকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা আইএমএফকে জানিয়েছে এনবিআর। 

সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৯ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে তা কমে প্রায় ৮ শতাংশে নেমে আসে। ফলে আইএমএফের এবারের সফরে রাজস্ব বাড়াতে কৌশলগত উদ্যোগ দেখতে চায় সংস্থাটি।

এ বিষয়ে রাজস্ব ভবনে বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এবং আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। আলোচনায় নতুন বাজেট, রাজস্ব ঘাটতি, রাজস্ব নীতি ও সংস্কার, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো এবং অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের বিষয় গুরুত্ব পায়।

পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ বলেন, ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির দিকে পরিবর্তিত করা। এ দুইটা একসাথে চলতে হবে। তা না হলে টেকসইভাবে রাজস্ব আহরণের ভিত্তি বাড়াতে পারব না। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির চাকা সচল থাকতে হবে। না হলে রাজস্ব সচল থাকবে, কিন্তু রাজস্বের ভিত্তি দুর্বল থাকলে রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রটাই কমে যাবে। 

এবারের বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এ লক্ষ্য অর্জনে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন, করজাল সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ এবং বকেয়া রাজস্ব আদায় জোরদারের মাধ্যমে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর উদ্যোগের কথা আইএমএফকে জানায় এনবিআর।

আয়কর বিশ্লেষক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, প্রতিমাসে যেসমস্ত মনিটরিংগুলো হয়, এই মনিটরিং একদম মাঠপর্যায়ে জোরদার ব্যবস্থা নিয়ে যদি ফলোআপ করা হয়, তাহলে আমরা হয়তো যে টার্গেট আছে সেই টার্গেটটা অর্জন করা যাবে। যদি এডিপি তিন লাখ কোটি টাকা বাস্তবায়ন করা যায়, ১৫ শতাংশ ট্যাক্স–ভ্যাট নিয়ে আসা গেলে ৪৫ হাজার কোটি টাকা এখান থেকেই আসে। 

নতুন ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাঁচ দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছে আইএমএফ প্রতিনিধি দল। এর অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আহরণের কৌশল সম্পর্কে ধারণা নেয় সংস্থাটি।