টানা চার অর্থবছরেও দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি সরকার। অর্থনীতিবিদদের মতে, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাজার ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের দুর্বলতা থাকায় শুধু নীতি সুদহার বৃদ্ধি বা কর কাঠামোর পরিবর্তন করে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, উচ্চ সুদহারের কারণে শিল্পে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান স্থবির হয়ে পড়ছে।
বগুড়ার মহাস্থানগড়সহ দেশের বিভিন্ন কৃষিপ্রধান এলাকা থেকে কম দামে কেনা সবজি রাজধানীর বাজারে কয়েক হাত ঘুরে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চাল, ডিম, মাছ, মুরগি, দুধসহ বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদক ও খুচরা বাজারের দামের মধ্যে দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত পার্থক্য রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ব্যবধান বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং কার্যকর নজরদারির অভাবের ফল।
মূল্যস্ফীতির কারণে গত চার অর্থবছরে ১০০ টাকার পণ্যের গড় মূল্য বেড়ে ১৪০ টাকার বেশি হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে মজুরি বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে এবং দারিদ্র্যের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত জুন মাসে দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি ছিল বাংলাদেশে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনশীল মুদ্রানীতি গ্রহণ করে নীতি সুদহার বাড়িয়েছে। তবে এতে ঋণের খরচ বেড়ে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং অনেক পণ্যের চাহিদা কমেছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু মুদ্রানীতি নয়, সরবরাহ ব্যবস্থা, বাজার তদারকি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।