রেস্তোরাঁ থেকে সিএনজি স্টেশন, হাহাকারের নাম গ্যাস

তীব্র গ্যাস সংকটে সিএনজি স্টেশনে ভোগান্তির পাশাপাশি বিপাকে পড়েছে হোটেল রেস্তোরাঁ শিল্প। স্বল্পচাপের কারণে গ্যাসের চুলা জ্বালাতে হচ্ছে কাঠের লাকড়ি দিয়ে। ব্যবসায়িদের শঙ্কা জ্বালানি সংকট নিরসন না হলে খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে। পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানের দাবি, চলতি সপ্তাহেই উন্নতি হবে গ্যাস  সংকটের। 

রাজধানীর বেইলি রোডের রেস্তোরাঁ নবাবী ভোজ। তিতাস গ্যাসের সরবরাহ চাপ কম থাকায় বাধ্য হয়েই খাবার রান্না করা হচ্ছে কাঠের লাকড়ি দিয়ে। এতে নির্ধারিত সময়ে খাবার প্রস্তুত করা নিয়ে শঙ্কা থাকছে প্রতিদিন। অনেক রেস্তোরাঁ আবার পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যবহার করছে কেরোসিনের চুলা। এমন চিত্র রাজধানীর বেশিরভাগ হোটেল রেস্তোরাঁয়। 

অভিযোগের সুরে রেস্তোরাঁ মালিক বলেন, ৩০ মিনিটের কাজটা লাকড়ি দিয়ে করলে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘন্টার মতো লেগে যাচ্ছে। ফলে কাস্টমারদের খাবার দিতে দেরি হচ্ছে, খাবার দিতে সমস্যা হচ্ছে। সময়মতো অর্ডার ডেলিভারি দেওয়া যাচ্ছে না।

গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে রেস্তোঁরা মালিক সমিতির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান বিপু বলেন, 'আমরা এখন পর্যন্ত রেস্তোঁরা সেক্টর থেকে কোনো কিছুর দাম বাড়াইনি। যে দাম আছে সে দামই রেখেছি। কিন্তু এভাবে যদি জ্বালানী সংকট হতে থাকে বা গ্যাসের সমস্যা হতে থাকে, তাহলেতো রেস্টুরেন্টের জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।' 

প্রায় দু সপ্তাহ ধরে চলা সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের জন্য অপেক্ষার চিত্র ঠিক আগের মতোই। গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকদের। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না প্রত্যাশিত গ্যাস। 

নিজের ভোগান্তির কথা বলতে গিয়ে এক সিএনজিচালিত অটোরিক্সা চালক জানান, এক ঘন্টা-দুই ঘন্টা সিরিয়ালে চলে যায়। গ্যাস পাই ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ টাকার। অথচ দুই থেকে আড়াই ঘন্টা সময় চলে যায়। এ প্রসঙ্গে গ্যাস স্টেশনের এক কর্মী বলেন, যে গাড়িতে গ্যাস যেত ৬০০ টাকার, সে গাড়িতে এখন গ্যাস যায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকার। গ্যাস সংকটের কোনো উন্নতি হয়নি।

চলমান গ্যাস সংকট কবে সমাধান হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান মুঠোফোনে জানান, ভাসমান টার্মিনালের ত্রুটি সারাতে বিদেশি টিম দিয়ে ত্রুটি সারানোর কাজ চলছে। কয়েকদিনের মধ্যেই গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। 

তিনি বলেন, 'বিদেশি একেবারে উচ্চ পর্যায়ের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট সারাদিন কাজ করছে। অ্যাসেসমেন্ট করে আমরা সব নিয়ে এসেছি। আমরা আশা করছি এ সপ্তাহে প্রথম ইউনিটটা চালু করতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।'

জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় চারশ কোটি ঘনফুটের। অথচ এর বিপরীতে সরবরাহ সক্ষমতা রয়েছে ২৮০ কোটি ঘনফুট।