রোম বিমানবন্দরে ৩৯ ঘন্টার দুর্ভোগ

বাংলাদেশ বিমানের সেবায় চরম গাফিলতির অভিযোগ যাত্রীদের

কানাডার টরন্টো থেকে ঢাকায় রওনা হয়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় দুইদিন রোমে আটকা পড়েন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের যাত্রীরা। কোনো আবাসন ছাড়া চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় ১৭০ যাত্রীকে। 

যাত্রীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত খাবার ও জরুরি ওষুধও সরবরাহ করেনি বিমান বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরায় স্বস্তি পেলেও, সেবার মান বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছেন যাত্রীরা। 

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কানাডার টরন্টো থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয় বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩০৬ ফ্লাইট। শুক্রবার সকালে জ্বালানি নিতে ইতালির রোমে ১ ঘণ্টার ট্রানজিটে থামে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনিশ্চয়তায় কাটে দীর্ঘ সময়।

দীর্ঘ প্রায় ২ দিনের মতো অপেক্ষা আর চরম ভোগান্তির পর রোম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে ফ্লাইটটি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় রোববার সাড়ে ১২টায়। এসময় বিমানের নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। 

ভুক্তভোগী এক যাত্রী বলেন, থাকার জায়গা নাই, খাওয়া নাই, অনেক হ্যাসেল করতে হয়েছে। আর সবচেয়ে বেশি হতাশাজনক ছিল যে, বাংলাদেশ বিমান আমাদের কোনো আপডেট দিচ্ছিল না।

আরেক যাত্রীর অভিযোগ, বাংলাদেশ বিমানের অনেক গাফিলতি অবশ্যই ছিল। আমার দিক থেকে আমি এটা মনে করি। আমার ৪ মাসের বাচ্চা নিয়ে আমি ৩৯ ঘন্টা রোমের এয়ারপোর্টে বসেছিলাম। 

যাত্রীদের মধ্যে আরেকজন জানান, দুই দিন চেয়ারে ঘুমানো- এটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক হতে পারে না।

অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। কানাডা, আমেরিকা ও ইউরোপীয় পাসপোর্টধারীদের আলাদা সুযোগ-সুবিধা দেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন যাত্রীদের অনেকেই।

তাদেরই একজনের অভিযোগ, ওইখানে (যাত্রীদের মাঝে) যারা কানাডিয়ান ও আমেরিকান পাসপোর্টধারী ছিল, ৮০ জনকে তারা হোটেলে দিয়েছে এবং আমাদের ১৭০ জনের মতো যাত্রীকে দুই দিন দুই রাত এয়ারপোর্টের নিচে রাখা হয়েছিল। 

ফ্লাইটে বিলম্ব হলে হোটেল সুবিধা দেওয়ার আন্তর্জাতিক নিয়মের উল্লেখ করে বিমানের আরেক যাত্রী বলেন, ১২ ঘন্টার মধ্যে হোটেল দেওয়াতো নিয়ম। এটা এয়ারলাইন্সের রুলস। অথচ আমরা ৪০ ঘন্টার মতো থেকে আসলাম, একটা যাযাবরের জীবনযাপন করে আসলাম আর কি! 

সার্বিকভাবে, বাংলাদেশ বিমানের সেবার মান উন্নয়নের কথা বলেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। তাদের দাবি, ভবিষ্যতে আর কোনো যাত্রীকেই যেন এমন দুর্ভোগে পড়তে না হয়।