মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে 

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ লোপাট ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ব্যাংকের ক্যালেন্ডার ও ডায়েরি কেনার নামে প্রায় দুইশো কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন ব্যাংকটির পরিচালক আব্দুল আওয়াল। গরিবদের মাঝে কম্বল বিতরণের নামে সিএসআর তহবিলের অর্থও লুটেছেন পরিচালকরা মিলেমিশে। শুধু তাই নয়, মিটিংয়ের সম্মানি নিয়েও অনিয়মে জড়িত তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকে কয়েক মাসের টানা তদন্তে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বিরুদ্ধে উঠে আসে একের পর এক অনিয়মের তথ্য। ব্যাংকটিতে বেশ কিছু অনৈতিক ও বেআইনি কার্যক্রম শনাক্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, একজন পরিচালক বোর্ড সভা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা সম্মনী পেতে পারেন। কিন্তু মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বোর্ড সভায় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের দেয়া হয় এক লাখ টাকা পর্যন্ত। এসব অর্থ ভুয়া বিল ও ভাউচারের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়। 

এখানেই ক্ষান্ত হননি পরিচালকরা। ব্যাংকটির সিএসআর তহবিলের অর্থও লুট করেন তারা। 

প্রতিবেদন বলছে,  ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১১০ কোটি টাকার কম্পিউটার কেনার কথা হলেও, তার ৮০ শতাংশ অর্থ আত্মসাৎ করার কথা উঠে আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরীক্ষায়। এছাড়া কম্বল, ক্যালেন্ডার ও ডায়েরী কেনার নামে প্রায় দুইশো কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠে ব্যাংকটির পরিচালক আব্দুল আওয়ালের রিরুদ্ধে। আর হাসপাতাল নির্মাণের নামে ২৫ কোটি টাকা লুটেছেন পরিচালকরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কেউ অনিয়ম করলে ছাড় দেওয়া হবে না।

এসব অভিযোগে সম্প্রতি ব্যাংকটির চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার তাপস চন্দ্র পালকে শোকজ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করা হলেও, তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। 

এ বিষয়ে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন বলেন, অতীতের মতো তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ দুঃখজনক।  এজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার।

এসব অভিযোগ নিয়ে ব্যাংকটির সাথে বার বার যোগাযোগ করা হলেও, কতৃপক্ষ কেউ কথা বলেনি।