বিডার তথ্য

দেশের বাজারে বিদেশি বিনিয়োগে খরা কাটছে

দেশে বিদেশি বিনিয়োগে খরা কাটতে শুরু করেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিনিয়োগ নিয়ে তৎপর হয়েছে বিভিন্ন দেশ। গত প্রায় দেড় বছরে বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০টি দেশের ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ হয়েছে।

বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিডা বলছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় আগামীতে বিনিয়োগ আরো বাড়বে। তবে বিদ্যুৎ-জ্বালানির সংকট দূর করা না হলে টেকসই বিনিয়োগ কঠিন হবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

গত এক দশকের বেশি সময়ে কয়েকটি বেসরকারি অঞ্চল ছাড়া সফলভাবে কোনো অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হয়নি। এমন বাস্তবতায় অন্তর্বর্তী সরকার ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের বদলে ৫টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার স্বল্পমেয়াদি ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেয়।

এসব অঞ্চলে বিনিয়োগে এগিয়ে রয়েছে তুরস্ক, চীন, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, সৌদি, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ২০টি দেশ। এদের মধ্যে ৭০ জন বিনিয়োগকারীর প্রায় দেড়শ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে ছিল এতদিন। এরইমধ্যে এসব বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে।

বিডা’র মুখপাত্র নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, ‘১০ থেকে ১২টি বড় বড় প্রোপোজাল যেগুলো গত ১২ থেকে ১৮ মাস পাইপলাইনে ছিল সেগুলো কনভার্ট হয়েছে। চাইনিজ প্রোডিউসারও পাওয়ার প্রোডিউস করতে চায়, সে তার মতো করে পাওয়ার ইনফ্রাসট্রাকচার তৈরি করতে পারবে। কিন্তু তাকে তো আমার গ্যাসের সরবরাহটা দিতে হবে। কারণ গ্যাস দিয়েই আসলে আমাদের এখানে পাওয়ার প্রোডিউস হয়।’ 

সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলোর একটি হংকংভিত্তিক হ্যান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজের ৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ করছে। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৮ কোটি ডলারের পোশাক কারখানার নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে কেরানীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২২ কোটি ডলারের বিনিয়োগ করছে, যা বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

এছাড়া, চীনের শানডং হেনগলি টেক্সটাইল নারায়ণগঞ্জের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করছে। চায়না লেসো গ্রুপ চট্টগ্রামে বিনিয়োগ করবে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ- বেজা ইতোমধ্যেই চট্টগ্রামের ন্যাশনাল স্পেশাল ইকোনমিক জোনে প্রতিষ্ঠানটিকে সাড়ে ১২ একর জমি হস্তান্তর করেছে।

ফরেন ইনভেস্টর চেম্বারের সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী বলেন, ‘গত ৩-৪ বছরের ভেতরে বিশেষ করে টেক্সটাইল শিল্পে তারা (বিনিয়োগকারীরা) কিন্তু গ্যাস পাব না বলে অনেকগুলো ইকোনোমিক জোন থেকে বের হয়েও আসছে। এবং এজন্যই আমাদের এখানে দেশি বিনিয়োগ যেমন সাফার করেছে, তেমনি বিদেশি বিনিয়োগও সাফার করেছে।’  

২০২৬ সালে পাইপলাইনে নতুন করে আরও দেড় হাজার কোটি ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ যুক্ত করতে চায় বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ- বিডা।