এনবিআর সংস্কার আন্দোলনের সময় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দণ্ডিত ২১ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতির আদেশে বাতিল হয়েছে তাদের লঘুদণ্ড। রোববার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
এনবিআর দুই ভাগ ইস্যুতে আন্দোলন করতে গিয়ে শাস্তির মুখে পড়েছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওই কর্মকর্তারা। অবশেষে সেই শাস্তি বাতিল হলো। এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে শাস্তি মওকুফের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
২০২৫ সালের ২৪ জুন রাজস্ব ভবনের প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে বদলির আদেশ প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলেন অভিযুক্ত কর্মকর্তারা। সরকারের ভাষ্য, এ আচরণ ছিল ঔদ্ধত্যপূর্ণ, শৃঙ্খলাবিরোধী এবং সরকারি আদেশ অবজ্ঞার শামিল। এ কারণে সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা এবং শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালার আওতায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কারও বেতন কয়েক ধাপ, আবার কারও বেতন কয়েক বছরের জন্য অবনমিত করা হয়েছিল।
ভ্যাট নিরিক্ষা গোয়েন্দার অতিরিক্ত কর কমিশনার হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার জানান, দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল করেন কর্মকর্তারা। আবেদনের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি আপিল মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ দেন।
শাস্তি বাতিল হওয়া কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন উপকমিশনার, কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, উপকর কমিশনার ও রাজস্ব কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এ আন্দোলন ছিল যৌক্তিক দাবিতে।
মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাওয়া কর্মকর্তারা জানান, এতে বোঝা যায় তাদের আন্দোলন ছিল যৌক্তিক। দেশের জন্য রাজস্ব আদায়ে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেন কর্মকর্তারা।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট রাজস্ব সম্মেলনে এনবিআর কর্মকর্তাদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টিকে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।