দুই বছরে ১০টি কন্টেইনার গায়েব হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে। অথচ একটি কন্টেইনার খালাসে অন্তত ২৪টি অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এতে বিপাকে আমদানিকারকরা। বন্দরের আন্তর্জাতিক মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এদিকে পণ্য গায়েব হলেও ক্ষতিপূরণ পেতে আদালতে যেতে হয় ব্যবসায়ীদের। এই জালিয়াতির পেছনে বড় চক্র আছে বলে ধারণা পুলিশের।
চলতি বছরের শুরুতে ডেলিভারি স্থগিত রাখা আড়াইশো কনটেইনারের হসিদ চেয়ে বন্দরকে চিঠি দেয় কাস্টম হাউস। জবাব মেলে প্রায় ৬ মাস পর। বলা হয়, ওই কন্টেইনারগুলোর মধ্যে ৮৮টি খালাস হয়েছে, ৭০টি স্থানান্তর করা হয়েছে বেসরকারি ডিপোতে। তবে, প্রায় ৪০টি চালানকে হিসাবজনিত ভুল দাবি করেছে বন্দর।
সম্প্রতি গাজীপুরের গোল্ডস্টার গার্মেন্টস, প্রায় দুই কোটি টাকার পণ্য আনে একটি কন্টেইনারে। সেটির কোনো হদিস নেই।
গোল্ডস্টার গার্মেন্টসের প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান বলেন, কন্টেইনারটির ডেলিভারির জন্য যাবতীয় কার্য সম্পন্ন করে; শিপিং বিল, পোর্ট বিল কমপ্লিট করে স্পেশাল স্লিপ নিয়ে কন্টেইনার নামাতে গিয়ে আর পাচ্ছি না।
এমন ঘটনা আরও আছে। ২০২৫ সালে নিলামে ৮৫ লাখ টাকার কাপড় কেনে শাহ আমানত ট্রেডিং। শুল্ক, বন্দরের মাসুলসহ কোটি টাকার বেশি পরিশোধও করে তারা। তবে পণ্য সংগ্রহে গিয়ে, কন্টেইনারের খোঁজ পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় দেড় বছর পার হলেও, বিষয়টির সমাধান হয়নি, গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।
শাহ আমানত ট্রেডিংয়ের প্রোপাইটর সেলিম রেজা বলেন, ১৯ মাস ধরে টাকা জমা দিয়ে এখনও পাচ্ছি না, টাকাও ফেরত পাইনি। এখন আদালত রুল দিয়েছেন, কাস্টমস বরাবর তা জমা দিয়েছি।
একটি কন্টেইনার খালাসে অন্তত ২৪টি অনুমোদন লাগে। কাস্টমস বলছে, আমদানি পণ্য বুঝিয়ে দেয়ার দায়িত্ব বন্দরের। তবে এ বিষয়ে বন্দরের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মুখপাত্র শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, কাস্টমস ও বন্দর পদ্ধতিগত উপায়েই পর্যায়ক্রমে কাজ করে থাকে। চেকিং, রিচেকিং, নিবিড় চেকিং এগুলো হয়ে থাকে। দুষ্টুরাওতো বসে থাকে না।
কন্টেইনার ও পণ্য উধাও হওয়ার পেছনে বড় চক্র থাকতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।
সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) আমিরুল ইসলাম বলেন, আমরা নিবিড়ভাবে তদন্ত করছি, এটার পেছনে কার কার দায় আছে। প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
এ ধরনের জালিয়াতির একটি মামলায়, গেল সোমবার দুটি সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।