বিমানের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বহরে সম্পন্ন হলো সেফটি মডিফিকেশন

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে থাকা দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজে গুরুত্বপূর্ণ 'ইগনিশন মিটিগেশন মিনস' (আইএমএম) মডিফিকেশন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। মার্কিন বিমান চলাচল প্রযুক্তি ও এভিয়েশন সার্ভিস প্রতিষ্ঠান এয়ারসেল কর্পোরেশন এই কারিগরি কাজ সম্পন্ন করে। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে ইনিশিয়েটিভ বিজনেস প্রকল্পটির স্থানীয় সমন্বয় ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সহায়তা প্রদান করেছে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে উড়োজাহাজ দুটিতে এয়ারসেলের এফএএ-অনুমোদিত 'এয়ারসেফ সাপ্লিমেন্টাল টাইপ সার্টিফিকেট' (এসটিসি) ভিত্তিক আইএমএম সমাধান বাস্তবায়ন করা হলো। আন্তর্জাতিক এয়ারওয়ার্থিনেস (উড্ডয়ন-উপযোগিতা) ও ফুয়েল-ট্যাংক সেফটি প্রয়োজনীয়তা পূরণের পাশাপাশি ফুয়েল ট্যাংকে সম্ভাব্য ইগনিশন ও ফ্লেম প্রোপাগেশনের ঝুঁকি কমানোই এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধিমালা (যেমন: এফএএ এফএআর §২৫.৯৮১, এসএফএআর ৮৮ এবং সংশ্লিষ্ট ইএএসএ নিয়মাবলী) অনুসরণে এয়ারসেলের প্যাসিভ সেফটি সলিউশন 'এয়ারসেফ' ব্যবহার করা হয়েছে। প্রচলিত নাইট্রোজেন জেনারেশন সিস্টেমের (এনজিএস) তুলনায় এতে কোনো জটিল মেকানিক্যাল উপাদান, মুভিং পার্টস বা ফুয়েল ট্যাংকের ভেতর ইলেকট্রিক্যাল কানেকশনের প্রয়োজন হয় না। ফলে দীর্ঘমেয়াদে উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন সহজতর হয়।

প্রকল্পটিতে প্রকৌশল ও মূল কারিগরি কাজ সম্পন্ন করেছে এয়ারসেলের নিজস্ব বিশেষজ্ঞ দল। পরিকল্পিত সিডিউলড মেইনটেন্যান্সের সঙ্গেই কাজটি সম্পন্ন হওয়ায় বাড়তি কোনো অপারেটিং ব্যাঘাত বা দীর্ঘমেয়াদী 'এয়ারক্রাফট অন গ্রাউন্ড' (এওজি) পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

বাংলাদেশে এয়ারসেলের স্থানীয় প্রতিনিধি এবং ইনিশিয়েটিভ বিজনেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিইও সামিন ওয়াই প্রিয়ম জানান, এটি আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত একটি এভিয়েশন সেফটি সলিউশন কীভাবে জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের বহরে প্রয়োগ করা যায়, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। এয়ারসেলের টেকনিক্যাল টিম সরাসরি এয়ারক্রাফটে কাজটি করেছে, আর ইনিশিয়েটিভ বিজনেস স্থানীয় সমন্বয় নিশ্চিত করেছে। বিমানে বিশ্বমানের প্রযুক্তি যুক্ত করার এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত।

তিনি আরও বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই ছিল বিশ্বমানের এভিয়েশন সক্ষমতা ও প্রযুক্তিকে বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টরের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা। এয়ারসেলের মতো একটি আন্তর্জাতিক এভিয়েশন প্রতিষ্ঠানের কারিগরি দক্ষতা সরাসরি বিমানের এয়ারক্রাফটে প্রয়োগ হওয়া সেই দীর্ঘমেয়াদি কাজের একটি বাস্তব প্রতিফলন।’ 

উল্লেখ্য, ইনিশিয়েটিভ বিজনেস আন্তর্জাতিক এভিয়েশন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও এমআরও-দের সঙ্গে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের সংযোগ তৈরিতে কাজ করে আসছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে এই মডিফিকেশন সম্পন্ন হওয়াকে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দেশীয় বাণিজ্যিক এভিয়েশন খাতের মধ্যে একটি সফল দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।