চরম দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল, নদীভাঙন এলাকা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার পরিবারের ৮ লাখ ৬০ হাজার মানুষ। দেশের ১২টি জেলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে পিকেএসএফ জানায়, শুধু নগদ সহায়তা নয়, দক্ষতা ও অর্থায়নের সমন্বিত উদ্যোগে এটি সম্ভব হয়েছে।
দেশের বন্যাপ্রবণ এলাকা, নদী ভাঙ্গন, ঘূর্ণিঝড় , হাওর অঞ্চল ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় কর্মসংস্থানের অভাবে পড়তে হয় চরম দারিদ্র্যে। এসব মানুষকে মুক্তি দিতে সমন্বিত ব্যবস্থায় ৪ বছরের কর্মসূচি হাতে নেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পিকেএসএফ।
প্রকল্পের হিসাবে, চরম দারিদ্র্য থেকে বের করার পাশাপাশি ১ লাখ ২৯ হাজার পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি সহায়তার আওতায় ৩ লাখ ৭ হাজার নারী ও শিশুকে নিয়ে আসা এবং ১ লাখ ৭ হাজার পরিবারকে সরকারি-বেসরকারি সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে পিকেএসএফ জানায়, কায়িক শ্রমনির্ভর, জমির পরিমাণ কম, আয় সীমিত কিংবা যাদের পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য নেই, তাদেরকে এ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
পিকেএসএফ-এর চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান বলেন, 'জনগণের আর্থিক চাহিদা বাড়ানোর জন্য এই অবকাঠামো করা হয়েছে। এটা ভবিষ্যতের জন্য একটি বিনিয়োগ, আজকের জন্য নয়। সবাই বলছে, এটা শেষ হয়েছে। আমি বলব যে, না শেষ না, নতুনভাবে শুরু।
ইইউ'র প্রতিনিধি মাইকেল ক্রেজা বলেন, এই প্রকল্প থেকে পাওয়া সকল উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতাকে বৃহত্তর নীতি ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রকল্পের অর্থায়ন শেষ হলেও প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হওয়া উচিৎ নয়।
ভবিষ্যতেও অতিদরিদ্র পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা ধরে রাখতে এ প্রকল্প ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন আলোচকরা।