জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও পে-স্কেলের কারণে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাই, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নীতি সুদহার সাড়ে ৯ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখে ত্রৈমাসিক ভিত্তিক মুদ্রানীতি ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে এক সংবাদ সম্মেলনে অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ের জন্য এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়।
জুলাই ও আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ শতাংশের ঘরে নেমে আসে। তবে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরকারি চাকরিজীবীদের পে-স্কেল ঘোষণা করায় মূল্যস্ফীতি আবার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আগামী তিন মাসের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর বলেন, প্রথমবারের মতো তিন মাস মেয়াদি এ নীতিতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘জ্বালানির মূল্য সমন্বয় এবং সাম্প্রতিক পে–স্কেলের ঘোষণা এগুলো ডিমান্ডসের ফেক্টরে কিছুটা হলেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে, মুদ্রাস্ফীতির হার হ্রাস পাওয়ার রেট যেটা আমরা লক্ষ্য করছিলাম সেটা সামনের দিকে কতটা রক্ষা হবে সেটা নিয়ে আমাদের মধ্যে একটু দ্বিধা কাজ করছে বলেই পলিসি রেটটা এবার কমানো হয়নি।’
দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় মুদ্রানীতিতে। বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা ও বিতরণ এখনো দুর্বল। যদিও, আগস্টে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে।
ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক প্রক্ষাপটে আমরা আমাদের পলিসি রেট সাড়ে ৯ শতাংশে অপরিবর্তীত রাখার সিদ্ধান্ত কমিটি জানিয়েছে।’
অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বিভিন্ন খাতে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।