এলপিজির জন্য এখনও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা

দাম বৃদ্ধির পরও এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট কাটেনি। বেশিরভাগ দোকানে গ্যাস নেই। দু-একটিতে মিললেও, নির্ধারিত দামের চেয়ে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুণতে হচ্ছে। দোকানদারদের দাবি, সরবরাহ স্বাভাবিক করেনি কোম্পানিগুলো। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এখনও বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় থাকেন জাকির হোসেন। দাম বৃদ্ধির পর সহজে মিলবে ভেবে, রিকশায় খালি সিলিন্ডার নিয়ে ঘুরছেন তিনি। তবে কয়েকটি এলাকা চষেও মেলেনি এলপিজি। খালি হাতেই তাকে বাড়ি ফিরতে হয়।

জাকির বলেন, ‘চুলায় রান্না বসানো আছে। কিছু রান্না হয়েছে, কিছু রান্নার এখনো বাকি। এরমধ্যেই গ্যাস শেষ। এখন আসলাম সিলিন্ডার নিতে, বিভিন্ন জায়গায় খুঁজছি, বলে নাই।’ 

রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি ছাড়া বেশিরভাগ দোকানেই সিলিন্ডার নেই। ফিরে যাচ্ছেন অনেক ক্রেতা। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যায় না কখনোই। পেলেও ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি গুণতে হয়।

এক ক্রেতা বলেন, ‘এক হাজার ৮০০ টাকা দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। কিন্তু আড়াই হাজার টাকার নিচে দাম বললে দোকানদাররা বলে গ্যাস নাই। চুলা জ্বলে না। সিলিন্ডার না নিলে খাব কী?’

আরেক ক্রেতা বলেন, ‘বাসায় গ্যাসের লাইনে সংযোগ আছে। মাসে মাসে বিল দিতাছি ঠিকই, কিন্তু গ্যাস নাই। সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হয়।’ 

রাজধানীর এক নাগরিক বলেন, ‘সরকারিভাবে যেন পাওয়া যায় বা সরকার নির্ধারিত দামে পাওয়া যায়, সেটার একটা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’ 

এক চায়ের দোকানি বলেন, ‘চার হাজার টাকার সিলিন্ডার এখন ছয় হাজার ২০০ টাকা দিয়ে কিনে আনলাম।’ 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দিতে পারছেন না তারা।

এক সিলিন্ডার বিক্রেতা বলেন, ‘আমার সপ্তাহে দরকার দুই হাজারটা সিলিন্ডার। পাচ্ছি মাত্র দুইশটি। সেটা দিয়ে তো বাজার নিয়ন্ত্রণ হবে না।’ 

আরেক বিক্রেতা বলেন, ‘আমার দিনে ৩০ (তিরিশ) হাজার টাকা খরচ। ১০ দিন পর গ্যাস আসলে সেটার খরচ কত পড়বে? এখন এই গ্যাসটা কি সরকারি দামে বেচা সম্ভব?’

লোয়াবের সিনিয়র সহসভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, ‘বিআরসি যাদেরকে অনুমোদন দিয়েছে। মন্ত্রণালয় যাদেরকে অনুমতি দিয়েছে। যাদেরকে অথরাইজড হিসেবে রিকগনেশন দিয়েছে, এদেরকে আমদানি করে মজুত বাড়াতে হবে। যদি মজুত বাড়ানো যায়, বাজারে সরবরাহটা বেশি থাকবে। এতে ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে গ্যাস পাবে।’ 

গেল সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে সংকট শুরু হয় এলপিজি সিলিন্ডারের। মাসের শেষ দিকে তীব্র আকার ধারণ করে সেটি। শেষমেষ ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়ানো হয় গেল রোববার।