দেশের অর্থনীতির গতি আরও কমার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, দেশে কমেছে বিনিয়োগ ও শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি। চলতি অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে। মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ আপডেট রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, অর্থনীতির ধীরগতির কারণে এক বছরে প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে।
দেশে গ্যাস বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে কমে যাচ্ছে কর্মসংস্থান। উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে কমছে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা। ফলে চাপে দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটে বলা হয়েছে, চলতি বছর প্রবৃদ্ধি হতে পারে মাত্র ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
রিপোর্ট বলা হয়, বেসরকারি বিনিয়োগ কমার পাশাপাশি ঋণ প্রবৃদ্ধিও নেমেছে ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৪ দশমিক ৫ শতাংশে। সরকারি বিনিয়োগেও একই চিত্র। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নের হার নেমেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৬৭ দশমিক ৫ শতাংশে।
বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেন, ‘অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগোতে হলে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।’
অর্থনীতির ধীরগতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবনে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। একই সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিও স্থবির হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ নাজমুস সাদাত বলেন, ‘ব্যাংকিং, রাজস্ব ও জ্বালানি খাতে সংস্কার জোরদার হলে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। এছাড়া জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ রাজস্ব আদায় হওয়ায় সরকারি বিনিয়োগ ও প্রয়োজনীয় ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ সীমিত হয়েছে।’
বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণে জানানো হয়, ফ্যামিলি কার্ড আরও কার্যকর করে নগদ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব।