বিআইডিএস-এর গবেষণা প্রতিবেদন

বিদেশি অনুদান কমায় বিপাকে ছোট ও মাঝারি এনজিও

বিশ্বজুড়ে বিদেশি দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা কমেছে ২৩ শতাংশ। কমেছে নতুন প্রকল্প অনুমোদনও। এতে সংকটে পড়ছে অনুদাননির্ভর ছোট ও মাঝারি এনজিওগুলো। আজ মঙ্গলবার সকালে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস-এর আলোচনায় এসব তথ্য উঠে আসে। 

এই প্রেক্ষাপটে সরকারি অর্থায়ন আর সরকার-এনজিও যৌথ সেবা কাঠামোকেই বিকল্প হিসেবে দেখছে বিআইডিএস। এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। 

গত বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে সব ধরনের কার্যক্রম ও প্রকল্প বন্ধ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি (ইউএস এইড)। এতে বিপাকে পড়ে সংস্থাটির সাথে কাজ করা এনজিওগুলো। 

বিআইডএস-এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর বিশ্বজুড়ে ধনী দেশগুলোর তরফ থেকে দেওয়া উন্নয়ন সহায়তা কমেছে ২৩ শতাংশ। ফলে নতুন প্রকল্পের অনুমোদনও কমেছে। সার্বিকভাবে গত পাঁচ অর্থবছরে নতুন প্রকল্প অনুমোদন ২ হাজার ৬১ থেকে ১ হাজার ৬৫৪টিতে নেমে এসেছে।

বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক বলেন, বাংলাদেশে এনজিও আকাশ থেকে আসেনি, এটা আমাদের সংস্কৃতির মধ্যেই ছিল। আগে এগুলো ছিল অনেকটা লোকালাইজড্‌, এখন আরও বিস্তৃত হয়েছে। 

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নেই এমন ছোট ও মাঝারি এনজিওগুলো। বিআইডিএসেরে গবেষণা বলছে, এসব এনজিওর বাজেট কমেছে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। 

অর্থনীতিতে এনজিও'র গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, 'এনজিওগুলোর মাধ্যমে সরকারের অনেকগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন- এটা অনেক ক্ষেত্রেই...সাশ্রয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

শুধু প্রচলিত উন্নয়নমূলক সেবাই নয়, সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশেও এনজিওগুলো ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তবে লাভজনক নয় এমন প্রকল্প নেওয়া হবে না। 

এছাড়া সংকট মোকাবিলায় যোগ্য এনজিওগুলোর একটি উন্মুক্ত তালিকা তৈরির সুপারিশ করেছে বিআইডিএস।