দেশের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে রামপালে। এজন্য আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। বুধবার একনেক সভাশেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সড়ক তৈরির পর ৩ বছরের মধ্যে গুণগত মান নষ্ট হলে, ঠিকাদারকে দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অনুমোদন দেওয়া হয় নতুন ১০টি ও সংশোধিত ০২টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধির ০১ প্রকল্প। এসব প্রকল্পে ব্যয় হবে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, বাকিটা প্রকল্প ঋণ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন।
পরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ ভাগ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য খাত থেকে ব্যবহারের লক্ষ্য সরকারের। এর ধারাবাহিকতায় প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আরেকটি সম্পুরক প্রকল্পে যুক্ত হবে ব্যাটারি স্টোরেজ।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প না করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৪৪২ মেগাওয়াটের প্রকল্প। কিন্তু এটা তো গ্রিড লাইনে যাওয়ার কথা। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন যে, স্টোরেজ ক্যাপাসিটি বাড়াতে। এরজন্য ব্যাটারি ক্যাপাসিটি রাখা হবে। প্রথমে এটা চার ঘণ্টা ব্যাকাপের ছিল, আজকের একনেক বৈঠকে ৮ ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকাপ রেখে প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।’
সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০ টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কিনতে ২৭৬৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। রেলকে যুগের চাহিদায় উন্নত করতে ও রাস্তাঘাট নির্মানেও গুণগত মান বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সরকার প্রধান।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘রেলের ৩০টি মিটার গ্যাজ লোকোমেটিভ কেনার প্রকল্প আজকে অনুমোদিত হয়েছে। এই প্রকল্পের মোট ব্যায় ২ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা।’
একনেক সভায় অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে আছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নতুন ৫টি অঞ্চলের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ অন্যান্য নতুন ও সংশোধনী প্রকল্প।