খাতা মূল্যায়নে কঠোর হচ্ছে শিক্ষা বোর্ড, ‘মানবিক নম্বর’ আর থাকছে না

বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল ভালো করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির বিষয়ে কঠোর হচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। ফল খারাপ হলে আনা হবে জবাবদিহিতার আওতায়। তবে খাতা মূল্যায়নে কঠোর অবস্থানেই থাকবে শিক্ষা বোর্ড। মানবিক নম্বর আর থাকবে না। 

গত ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত হয়েছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল। এবার পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গতবছরের থেকে পাসের হার কমেছে ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ। মানবিক নম্বর দেওয়া বন্ধ হওয়ায় এসএসসি ও এইচএসসিতে প্রকৃত ফলাফল উঠে আসছে বলে দাবি করছে শিক্ষা বোর্ড। বোর্ড বলছে, এখন থেকে এই পদ্ধতিতেই খাতা দেখা হবে। এই অবস্থা থেকে কীভাবে ফল ভালো করা যায় সেটি নিয়েও কাজ শুরু করেছে বোর্ড। 

এরই মধ্যে বোর্ড থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির বিষয়েও কঠোর নিয়ম হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষকেরা নিয়মিত ক্লাস নেন না। সেই সঙ্গে ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের দক্ষ শিক্ষকদের ঘাটতি কারণেও ফল হচ্ছে খারাপ।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, ‘বেশিকিছু জায়গায় স্কুল ও কলেজ, সেখানে স্কুলের শিক্ষক দিয়েই কলেজ চলছে। কলেজের জন্য আলাদা কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেয়নি। শর্তসাপেক্ষে আমাদের কথা দিয়ে তারা কলেজ শাখা খোলার অনুমতি নিয়ে গেছে কিন্তু এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি।’

যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফল খারাপ হয়েছে তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা হবে। একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি সেসব প্রতিষ্ঠানকেও কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হচ্ছে।

খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, ‘গুচ্ছ গুচ্ছ আকারে আমরা কয়েকটি কলেজকে ডাকব। এখানেও তাঁদের সঙ্গে আমরা আলাপ করব এবং আমরাও তাঁদের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে আসব।’

পাস ফেল নয়, শিক্ষার মান বাড়াতে জোর দিচ্ছেন শিক্ষা গবেষকরা। শিক্ষার্থীরা যেন মোবাইল ফোনে আসক্ত না হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে অভিভাবকদের। শিক্ষার মান নিশ্চিতে শুধু উদ্যোগই নয়, বাস্তবায়নে নিতে হবে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ।