তফসিল ঘোষণার পরও ছয় শতাধিক কর্মকর্তাকে বদলি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যাকে নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, শিক্ষা সংকট দূর করার চেয়ে বদলি-পদায়ন নিয়ে বেশি ব্যস্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর পেছনে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। এসব বিষয়ে কোনো জবাবদিহিও নেই মন্ত্রণালয়ের।
সারাদেশে শুরু হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার। এই প্রচার চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
নিয়ম অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে বদলি করা যাবে না। অথচ তফসিল ঘোষণার দিন গভীর রাত পর্যন্ত পাঁচ শর বেশি কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গত এক মাস ধরেই চলছে বদলি। অভিযোগ আছে, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই চলছে এই ‘বদলি বাণিজ্য’।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘ওনারা নিয়ম ভেঙে এ কাজটা করছেন, বদলি করছেন। যে জায়গাগুলোতে পদায়ন হওয়া দরকার, সেগুলো হলো মাউশির ডিজি, এনসিটিবির চেয়ারম্যান। এসব জায়গায় না দিয়ে যেখানে ঘুষ বাণিজ্য আছে, প্রচুর টাকা লেনদেন হয়, সেই জায়গাগুলোতে দিচ্ছে।’
এখন পর্যন্ত সব বিষয়ের বই পায়নি শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও আছে নানা অস্থিরতা। শিক্ষা গবেষকেরা বলছেন, এসব নিয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকলেও মন্ত্রণালয় ব্যস্ত বদলি নিয়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘অটো প্রমোশন দিয়ে ফেলেছে, সময়মতো বই পায়নি। তারপর আমরা দেখেছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দিনের পর দিন বন্ধ ছিল। শিক্ষা ক্ষেত্রে আমি যদি বলি, সরকারের সফলতা তো দূরের কথা, বরং চরমভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’
বদলি-পদায়ন গুরুত্ব পেলেও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক ও এনসিটিবির চেয়ারম্যান পদ দীর্ঘ দিন ধরে ফাঁকা। এসব বিষয়ে জানতে শিক্ষা উপদেষ্টাকে বারবার ফোন করেও সাড়া মেলেনি।