শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য ইতালির স্কলারশিপ, আবেদন করবেন যেভাবে

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ খুঁজছেন এমন শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে ইতালি। ইউরোপের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাভিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশের গবেষকদের জন্য দিচ্ছে ‘সিআইসিওপিএস স্কলারশিপ ২০২৬’। স্বল্পমেয়াদি এই গবেষণা কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচিতরা ইতালিতে গিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

গবেষণার জগতে নিজেকে এগিয়ে নিতে এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের ক্ষেত্রে এ ধরনের স্কলারশিপ অনেকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন বা গবেষণার সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য এটি হতে পারে ক্যারিয়ারের বড় একটি ধাপ।

কী এই সিআইসিওপিএস স্কলারশিপ

সিআইসিওপিএস মূলত একটি স্বল্পমেয়াদি গবেষণা কর্মসূচি। যা পাভিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এতে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে ইডিআইএসইউ।

এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষক ও গবেষকদের ইতালিতে নিয়ে এসে যৌথ গবেষণার সুযোগ তৈরি করা। একই সঙ্গে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।

প্রতিবছর এই স্কলারশিপের আওতায় সীমিতসংখ্যক গবেষককে নির্বাচন করা হয়। ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত সংখ্যা মাত্র ৬টি। ফলে প্রতিযোগিতাও তুলনামূলক বেশি।

কী কী সুবিধা মিলবে

নির্বাচিত হলে গবেষকদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যাওয়া-আসার বিমানভাড়া, থাকার জন্য আবাসন ব্যবস্থা, দৈনিক খাবারের সুবিধা, স্বাস্থ্যবিমা ও জীবনযাপনের ভাতা।

এই সুবিধাগুলো গবেষণার সময় আর্থিক চাপ কমিয়ে দেয়। ফলে অংশগ্রহণকারীরা পুরোপুরি গবেষণায় মনোযোগ দিতে পারেন।

কতদিনের গবেষণা

এই স্কলারশিপের আওতায় গবেষণার মেয়াদ হবে ৪ থেকে ১২ সপ্তাহ। নির্বাচিত প্রার্থীরা দুটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাদের গবেষণা সম্পন্ন করতে পারবেন। একটি ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর ২০২৬। অন্যটি ১২ জানুয়ারি থেকে ২৪ জুলাই ২০২৭। নিজের সুবিধা অনুযায়ী এই সময়ের মধ্যে গবেষণার সময় নির্বাচন করা যাবে।

কোন বিষয়ে আবেদন করা যাবে

এই স্কলারশিপের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর গবেষণার সুযোগ রয়েছে। প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জীবনবিজ্ঞান, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান। তাই বিভিন্ন পটভূমির গবেষকরা এখানে আবেদন করতে পারবেন।

কারা আবেদন করতে পারবেন

আবেদনের জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। যেমন-

  • বিশ্বব্যাংকের তালিকাভুক্ত উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক হতে হবে।
  • শিক্ষকতা বা গবেষণায় কমপক্ষে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
  • ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে।
  • একটি শক্তিশালী গবেষণা প্রস্তাব থাকতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক বা অ্যাকাডেমিক পেশাজীবীরা আবেদন করতে পারবেন। তবে যারা ইতালিতে বর্তমানে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি করছেন, তারা এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

আবেদন করবেন যেভাবে

এই স্কলারশিপের আবেদনপ্রক্রিয়া একটু ভিন্নধর্মী। সরাসরি ফরম পূরণ করলেই হবে না, তার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ রয়েছে।

প্রথমে আবেদনকারীকে পাভিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একজন অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। নিজের গবেষণা প্রস্তাব তাকে জানাতে হবে। যদি তিনি আগ্রহী হন, তাহলে একটি আমন্ত্রণপত্র দেবেন। এই আমন্ত্রণপত্র ছাড়া আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

যাদের সরাসরি যোগাযোগ নেই, তারা ই-মেইলের মাধ্যমে সিআইসিওপিএস অফিসে গবেষণা প্রস্তাব পাঠিয়ে সম্ভাব্য সুপারভাইজার খুঁজে নিতে পারেন। এরপর অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

আবেদনের শেষ তারিখ আগামী ১০ জুন ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার সুযোগ অনেক সময় ক্যারিয়ারের নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। ইতালির এই স্কলারশিপও তেমন একটি সুযোগ। যারা গবেষণায় আগ্রহী এবং নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান, তাদের জন্য এটি হতে পারে একটি বড় পদক্ষেপ।