বছরের পর বছর ঘুরেও অবসরের টাকা পান না শিক্ষকেরা। অথচ এই টাকা দেয়ার দপ্তর অবসর সুবিধা বোর্ড এবং কল্যাণ ট্রাস্ট ১ টাকা ভাড়ার অফিস ছেড়ে ১০ লাখ টাকার অফিস নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নেয়।
অবসর সুবিধাবোর্ড এবং কল্যাণ ট্রাস্টের অফিস ছিল নীলক্ষেতের ব্যানবেইজ ভবনের নিচ তলায়। প্রতিমাসে অফিস দুটির ভাড়া ছিল ১ টাকা করে। অথচ এই ভবন ছেড়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের ১৩ তলায় নতুন অফিস নেয়া হয়। যার ভাড়া প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকার মতো। অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় শিক্ষামন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নেয়।
ইস্কাটনে অফিস নেয়ায় ব্যপক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের। কারণ এখানে গণপরিবহনে সরাসরি আসা যায় না। প্রাপ্য অবসরভাতা পেতে এত সময় লাগায় অসন্তোষ জানান ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা।
এখন পর্যন্ত অবসর সুবিধা বোর্ডে ৬৭ হাজার আবেদন জমা আছে আর কল্যাণ ট্রাস্টে আছে ৪০ হাজারের বেশি আবেদন। ২০২১ সালের পর যারা অবসরে গেছেন তাদের কেউই পেনশনের টাকা পাচ্ছেন না। অথচ সেই শিক্ষকদের পাওনা টাকা থেকে প্রতিমাসে ১০ লাখ টাকা ভাড়া দেয়াকে অযৌক্তিক বিলাসিতা বলছেন শিক্ষা গবেষকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষকদের জমানো টাকা, শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা ব্যয় করে এত টাকা ভাড়া দিয়ে অফিস নেয়ার কোনো যৌক্তিকতা দেখি না।’
কর্তৃপক্ষ বলছে, বোর্ড না থাকা এবং সফটওয়ার জটিলতার কারণে প্রাপ্য টাকা পাচ্ছেন না শিক্ষকরা।
অবসর সুবিধা বোর্ডের উপ-পরিচালক অধাপক নাহিদা চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সফটওয়্যারটা কাজ করছে না। এর মাধ্যমে আমরা শিক্ষকদের মেসেজ দেই, জানাই সবকিছু।’
কল্যাণ ট্রাস্ট সদস্য সচিব অধ্যাপক হুমায়ন কবির সেখ বলেন, ‘দীর্ঘদিন বোর্ড না থাকার কারণে আমরা প্রসেসিং করতে পারছি না। এ জন্য দেরি হচ্ছে।’
আগের অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসার পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না বলে নতুন অফিস নেয়া হয়েছে, বলছে কর্তৃপক্ষ।