প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের ভালোবাসা ও ত্যাগের গল্প: মাহদী আমিন 

বাংলাদেশ কিংবা সারা বিশ্বের প্রতিটি শিক্ষার্থীর অর্জন ও সাফল্যের পেছনে তাঁদের বাবা-মায়ের ত্যাগের গল্প আছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)–এর ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্যে সম্প্রতি তিনি এ মন্তব্য করেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, একজন গ্র্যাজুয়েটের জীবনে, বিশেষ করে স্নাতক বা ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জনের পর, সমাবর্তনে উপস্থিত হওয়া জীবনে একবারের একটি অনন্য সুযোগ। এটি এমন একটি দিন যা আপনারা সারা জীবন স্মরণ রাখবেন।

তিনি বলেন, আজ যখন আপনারা আপনাদের সমাবর্তন উদযাপন করছেন, আমরা নিশ্চিতভাবেই বুঝতে পারছি যে আপনাদের জীবনে অনেক বড় বড় স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। আপনারা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন, তা উচ্চশিক্ষায় একাডেমিয়াতেই হোক, মাস্টার্স বা পিএইচডি করার পরবর্তী ধাপেই হোক, পেশাগত ক্যারিয়ারের চাকরিতেই হোক, যা আপনারা বাংলাদেশে কিংবা দেশের বাইরে শুরু করতে যাচ্ছেন, কিংবা আপনাদের কোনো উদ্ভাবনী চিন্তাই হোক না কেন, সবকিছুই ভবিষ্যৎমুখী। এটি অসাধারণ, কারণ এটি আপনারা অর্জন করেছেন। আজ আপনারা যে সার্টিফিকেটটি পেয়েছেন, তা আপনাদের একটি আলোকিত এবং সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করবে।

মাহদী আমিন বলেন, কিন্তু একই সাথে আমি আপনাদের পেছনের পথচলাটির দিকেও তাকাতে বলব। আজকে যে বর্তমান আপনারা পেয়েছেন, তা যেমন আপনাদের ভবিষ্যৎ দেবে, তেমনি এর পেছনে রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল অতীত। শিক্ষাজীবনের এই বছরগুলোতে আপনারা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন, পরীক্ষার নানান উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা পার করেছেন, ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন দুশ্চিন্তা অতিক্রম করেছেন। কিন্তু আজ আপনারা এই সমাবর্তনে উপস্থিত হয়েছেন আপনাদের পিতা-মাতার লক্ষ্যপূরণ করে।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছেও আইইউটির একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। কারণ আমরা যে রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত, সেই দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, আরেক মহান নেতা ইয়াসির আরাফাতকে সাথে নিয়ে এই আইইউটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তাই মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ক্ষেত্রে আইইউটির এক বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বহুবার এই ক্যাম্পাসে এসেছেন এবং সমাবর্তনে অংশ নিয়েছেন। এবং আমি বিশ্বাস করি, বর্তমানে বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনায় থাকায়, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আগামী দিনগুলোতে একইভাবে এখানে আসবেন, ইনশাআল্লাহ।

মাহদী আমিন বলেন, আপনাদের আহ্বান জানাব এমন মানুষ হয়ে উঠতে, যাঁরা সর্বদাই সমাজের যত্ন নেবেন এবং মানুষের ক্ষমতায়নে, নারীর ক্ষমতায়নে, শিশুর ক্ষমতায়নে ও তরুণদের ক্ষমতায়নে বাস্তব প্রভাব ফেলার দায়িত্ব থেকে কখনোই পিছিয়ে যাবেন না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কিংবা সারা বিশ্বের প্রতিটি শিক্ষার্থীর অর্জন ও সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁদের বাবা-মায়ের ভালোবাসার গল্প, ত্যাগের গল্প, ধৈর্যের গল্প, ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প, হয়তো কঠিন সংগ্রামের গল্প। তাই পরিবারের সদস্যদের এই অবদানের কথা স্মরণ রাখুন এবং হৃদয় থেকে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।

মাহদী আমিন বলেন, আপনাদের শিক্ষকরা আপনাদের জ্ঞান দিয়েছেন, আপনাদের পরিবার আপনাদের শেকড় ও আত্মপরিচয় দিয়েছে, আর আপনাদের শিক্ষা ও এই ডিগ্রি আপনাদের ওড়ার ডানা দিয়েছে। কিন্তু কোন দিকে উড়বেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের। আপনাদের যে মেধা ও শক্তি রয়েছে তা কীভাবে কাজে লাগাবেন এবং বৃহত্তর সমাজের প্রতি দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, আপনাদের যে ডিগ্রি ও সার্টিফিকেট রয়েছে, তা নিয়ে বুঝুন যে বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বাইরে এক বিশাল ও উন্মুক্ত বিশ্ব রয়েছে যেখানে আপনাদের পৌঁছাতে হবে। তাই যা অর্জন করেছেন তা দিয়ে আইইউটি, পরিবার, সমাজ এবং নিজেকে গর্বিত করুন এবং নিজের ক্যারিয়ারে আলো ছড়াতে থাকুন।