চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর মোট ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৩টি উত্তরপত্র (বিষয়) পুনর্নিরীক্ষা ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করা হয়েছে।
উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের জন্য দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ২ লাখ ৯১ হাজার ২০৯ জন শিক্ষার্থী এই আবেদন করেছেন। তারা ইংরেজি ও আইসিটিসহ বিভিন্ন বিষয়ে উত্তরপত্র (বিষয়) পুনর্নিরীক্ষা ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন।
এর মধ্যে শুধু ঢাকা শিক্ষা বোর্ডেই খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৯টি আবেদন জমা পড়েছে।
ঢাকা বোর্ডের বিষয়ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলা, ইংরেজি, আইসিটি ছাড়াও বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
ঢাকা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে সমানসংখ্যক অর্থাৎ ৪২ হাজার ২টি এবং ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিষয়ে ৩৮ হাজার ৭৫টি আবেদন জমা পড়েছে। ঢাকা বোর্ডে এই দু’টি বিষয়েই সর্বোচ্চ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা হয়েছে।
ইংরেজি ও আইসিটিতে পাসের হার কম হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান জানান, দুই বছর ধরে পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠ ও নির্মোহ করা হয়েছে।
তিনি জানান, এছাড়া শিক্ষক সংকটও একটি বড় কারণ। অনেক কলেজে পর্যাপ্ত আইসিটি শিক্ষক নেই, এমনকি সরকারি কলেজে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের দিয়ে আইসিটি পড়ানো হয়। এছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আইসিটি সহজবোধ্য হলেও মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এই সিলেবাস বেশ কঠিন বলেও মনে করেন তিনি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আবশ্যিক বিষয়গুলোর মধ্যে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায়ও উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে সমানসংখ্যক অর্থাৎ ২৪ হাজার ৮৫৮টি পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়েছে।
বিজ্ঞান বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে রসায়নে; যেখানে প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে সমানসংখ্যক অর্থাৎ ১৮ হাজার ৪৮২টি করে আবেদন জমা পড়েছে। এছাড়া জীববিজ্ঞানে (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) সমানসংখ্যক অর্থাৎ ১৫ হাজার ৭৫৭টি করে খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করা হয়েছে।
মানবিক বিভাগে পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে সমানসংখ্যক অর্থাৎ ৩ হাজার ৫৭১টি এবং সমাজকর্মে ১ হাজার ৯৯৭টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করা হয়েছে।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বিষয়গুলোর মধ্যে হিসাববিজ্ঞানে সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে। এই বিষয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে সমানসংখ্যক অর্থাৎ ৩ হাজার ৮২৭টি আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৩৩১টি পুনর্নিরীক্ষার আবেদন জমা পড়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে ১১টি বোর্ডে ২ লাখ ৯১ হাজার ২০৯ জন শিক্ষার্থী ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৩টি পত্রের খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করেন। আবেদনের শেষ সময় ছিল আজ ৮ নভেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত।
আগামী ২৩ নভেম্বর পুনর্নিরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এর আগে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের পরও ব্যাপক পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফল পুনর্মূল্যায়নের জন্য ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। এতে মোট পত্রের সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি। পুনর্নিরীক্ষণের পর এসএসসিতে সারা দেশে ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছিল এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ৭৯ জন।
বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, খাতা মূল্যায়নে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতির প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।