ড্রিম গার্ল শব্দটি কানে এলেই মনের মধ্যে ভেসে ওঠে ধনুক বাঁকা নাক, কাজল কালো দুটি চোখ, মিষ্টি হাসির অপরূপ অবয়ব। নামটা হেমা মালিনী। বলিউডের ড্রিম গার্ল। বিখ্যাত ছবি ‘শোলে’র বাসন্তী! শুধু সিনেমার পর্দাতেই নয়, বাইরেও তিনি একই। এখনও ধরে রেখেছেন নিজের জৌলুস। বড় পর্দা থেকে পরিচালনা, এরপর সোজা রাজনীতির আঙিনায়। সেখানেও উজ্জ্বল তিনি। আজ ১৬ অক্টোবর তাঁর ৭৫তম জন্মদিন। ১৯৪৮ সালের এই দিনে এক তামিল পরিবারে তাঁর জন্ম।
জানা-অজানা তথ্য
অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেছিলেন হেমা মালিনী। আজও তাঁর ভক্ত সংখ্যা কম নয়। তিনি হিন্দু ধর্ম পালন করেন। স্বামী ধর্মেন্দ্রও হিন্দু। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না যে, দু’জনে বিয়ের সময় মুসলিম ধর্ম নিয়েছিলেন। ধর্মেন্দ্র আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন। হিন্দু বিবাহ আইনে একজন স্ত্রী থাকলে দ্বিতীয় বিয়ে করা যায় না। আবার প্রথম স্ত্রীকে ছাড়তে রাজি ছিলেন না তিনি। মুসলিমদের একাধিক বিয়েতে অসুবিধা নেই। তাই বিয়ের আগে মুসলিম হয়ে থাকলেও সেই পরিচয় গোপন রাখেন হেমা মালিনী।
সম্পর্কের টানাপোড়েন
তখন দুজনই পরিচিত মুখ। জিতেন্দ্র, হেমা মালিনী। পাত্র হিসেবে জিতেন্দ্রকে পছন্দ ছিল হেমার মা-বাবারও। শোনা যায়, জিতেন্দ্রর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়ার পর একদম শেষ মুহূর্তে নাকি তা ভেঙে দেন হেমা। বাড়ি থেকে বহু চেষ্টা করেও জিতেন্দ্রর সঙ্গে তাঁর বিয়ে দিতে পারেনি। চেষ্টা ছিল ধর্মেন্দ্রর কাছ থেকে কীভাবে সরিয়ে আনা যায় হেমাকে। শোনা যায়, সঞ্জীব কুমারও হেমা মালিনীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। হেমা প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সঞ্জীব মদের নেশায় ডুবে যান। নিজের আত্মজীবনীতে হেমা লিখেছেন, বলিউডের প্রয়াত অভিনেতা সঞ্জীব কুমারের সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব ছিল তাঁর।
অভিনেত্রী থেকে নেত্রী
সিনে জগতে সাফল্যের পর রাজনীতিতে যোগ দেন হেমা মালিনী। ১৯৯৯ সালে তিনি বিজেপির হয়ে প্রচারণায় অংশ নেন। এরপর ২০০৪ সালে হেমা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ফিরে আসা বিরতির পর
বেশ কয়েক বছর ফিল্ম থেকে বিরতি নেওয়ার পরে ‘মালিনী বাগবান’ (২০০৩) ছবির মাধ্যমে ফিরে আসেন, যার জন্য তিনি ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। তিনি ২০০৪ সালে নির্মিত 'বীর-জারা' ও 'লাগা চুনারি মে দাগ' অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ২০১০ সালে তিনি অভিনেত্রী রেখার সঙ্গে ‘সাদিয়ান’-এ অভিনয় করেছিলেন। ২০১১ সালে তিনি তাঁর তৃতীয় ফিচার ফিল্ম ‘টেল মি ও খুদা’ প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছিলেন, এতে তাঁর স্বামী ধর্মেন্দ্র এবং তাঁর মেয়ে এশা দেওল উভয়ই অভিনয় করেছিলেন, যা বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়েছিল। ২০১৭ সালে তিনি বিজয় রাজে সিন্ধিয়ার ভূমিকায় ‘এক থা রানী আইসি ভি’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন।
চলচ্চিত্র
তামিল ছবি দিয়ে শুরু করলেও বলিউডে ‘শোলে’, ‘সীতা ওর গীতা’, ‘মিরা’, ‘কিনারা’, ‘সন্ন্যাসী’, ‘মেহবুবা’, ‘ড্রিম গার্ল’, ‘প্রেম নগর’, ‘খুশবু’র মতো ছবি দিয়ে তিনি বারবার নিজেকে প্রমাণ করতে থাকেন। অল্প সময়ে হয়ে ওঠেন সবার মনের ‘ড্রিম গার্ল’। মোট ১১ বার ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে মনোনয়ন পান হেমা। ২০০০ সালে তিনি পদ্মশ্রী সম্মাননা লাভ করেন।
সূত্র: এবিপি নিউজ