বিতর্কে ৭৫০ কোটির ‘ধুরন্ধর ২’, থানায় অভিযোগ দায়ের

বক্স অফিসে এখনও অপ্রতিরোধ্য নির্মাতা আদিত্য ধরের নতুন ছবি ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। মুক্তির মাত্র সপ্তাহখানেকের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ৭৫০ কোটি রুপির ব্যবসা করে ইতিমধ্যে হইচই ফেলে দিয়েছে এই ছবি। যদিও প্রথমভাগের মতো এখনও বিতর্ক! বক্স অফিস সাফল্যের মধ্যেই অভিযোগের তিরে বিদ্ধ রণবীর সিং ও আর মাধবন অভিনীত ‘ধুরন্ধর’ সিক্যুয়েল। 

আদিত্য ধর পরিচালিত ছবিটির বিরুদ্ধে আগেই উগ্র হিন্দুত্ববাদ প্রচারের অভিযোগ উঠেছিল। এবার শিখ সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তুললেন মহারাষ্ট্রের এক শিবসেনা নেতা। মুম্বাইয়ের এক থানায় অভিযোগও দায়ের হয়েছে।

একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সিক্যুয়েলটির একটি দৃশ্য ঘিরেই এই বিতর্কের শুরু। যেখানে দেখা যায়, রণবীর যখন গুরু গোবিন্দ সিং রচিত ‘দশম গ্রন্থ সাহেব’ থেকে পবিত্র গুরবাণী পড়ছেন, ঠিক সেসময় তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে করতে ধূমপান করছেন মাধবন। 

ধর্মীয় চর্চার মাঝে অভিনেতার মুখে এভাবে ধূমপান দেখে গুরু গোবিন্দ সিং ও শিখ ঐতিহ্যকে অপমানের অভিযোগে ফুঁসে উঠেছেন ‘শিখস ইন মহারাষ্ট্র’ সংগঠনের সভাপতি গুরজ্যোৎ সিং। তাঁর ভাষ্য, ‘পর্দায় যখন ধর্মীয় বিশ্বাস বা সে ধরনের কোনো দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়, তখন নির্মাতাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সেই প্রেক্ষিতেই মাধবন ও রণবীর অভিনীত দৃশ্যটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন চিত্রায়নে শিখদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অজ্ঞতা এবং সংবেদনশীলতার অভাবকেই প্রতিফলিত করে।’

এখানেই অবশ্য থামেননি গুরজ্যোৎ সিং! তিনি আরও বলেন, ‘গুরু গোবিন্দ সিং জির এই শ্লোক মূলত আওরঙ্গজেবের শাসনকালে রচিত। এমন এক সময়ে যখন হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। আর সিনেমার দৃশ্যে সেই শ্লোকের এমন দৃশ্যায়ন শিখদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানা ব্যতীত আর কিছুই নয়। তাই অবিলম্বে আদিত্য ধর, মাধবন ও রণবীর সিংয়ের উচিৎ শিখ সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাওয়া। আর যদি ক্ষমা না চান, তাহলে তাঁরা যেখানেই যাবেন, তাঁদের কালো পতাকা দেখান। এর অন্যথা হলে ইতিহাস সাক্ষী আছে যে শিখ সম্প্রদায় কী কী করতে পারে।’

গুরু গোবিন্দ সিং, শিখ ঐতিহ্য ও গুরুবাণীকে অপমানের অভিযোগে এরইমধ্যে মুম্বাইয়ের মুলুন্দ পুলিশ স্টেশনে ‘ধুরন্ধর’ নির্মাতা আদিত্য ধর ও অভিনেতা আর মাধবনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন গুরজ্যোৎ।