পথ খুঁজছি দেশে ফেরার, আমার মায়ের কাছে ফেরার, কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না: জাফর পানাহি

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে আমেরিকা জড়ানোর পর থেকেই বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। এই যুদ্ধ-বিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে নিজ দেশ ইরানে ফিরতে না পারার বেদনাদায়ক বাস্তবতা তুলে ধরেছেন স্বর্ণপামজয়ী নির্মাতা জাফর পানাহি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার ক’দিন আগেই অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গিয়েছিলেন তিনি। এখন যুদ্ধাবস্থায় আকাশ ও স্থলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কার্যত নিজ দেশ ইরানে ফেরা তাঁর জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামের এক পোস্টে সেই আবেগঘন পরিস্থিতির কথা জানান এই নির্মাতা। তিনি লেখেন, ‘আমি রোজ পথ খুঁজছি দেশে ফেরার, আমার পরিবার, বিশেষ করে আমার মায়ের কাছে ফেরার। কিন্তু এটা আর সম্ভব হচ্ছে না। আমার দেশ, আমার মানুষ যখন প্রতিদিন এই যুদ্ধের বলি হয়ে যাচ্ছে, তখন নিজেকে অসহায় মনে হয়।’

তিনি আরও লেখেন, ‘যখন একটি জাতির নিয়তি উচ্চাভিলাষী শক্তিধরদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে, তখন আমাদের হাতে থাকে শুধু ক্ষোভ, শোক আর ভবিষ্যৎহীন প্রজন্মের জন্য সত্য বলার দায়।’

এই পোস্টের আগেও যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন জাফর পানাহি। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি, যেন তারা ইরান ও ইসরায়েল—উভয় পক্ষকে সামরিক হামলা বন্ধ এবং বেসামরিক মানুষ হত্যা থামাতে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।

তিনি লিখেছিলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো সংশয় নেই; আমি আমার অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি। আবারও বলছি, আমার মাতৃভূমি ইরানের ওপর আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধ-আক্রমণকারী হিসেবে বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত।’

তবে সেই পোস্টে পানাহি আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবিলম্বে বিলুপ্তি এবং জনগণের জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা।

পানাহি লিখেছিলেন, ‘এই সরকার (আয়াতুল্লাহ খামেনির সরকার) না শক্তি, না ইচ্ছা, না বৈধতা—কোনোটাই রাখে না দেশের শাসন চালিয়ে নেওয়ার বা সংকট মোকাবিলায়। এ ব্যবস্থার সঙ্গে থাকা মানে হলো আরও পতন, আরও নিপীড়নের ধারাবাহিকতা দেখা।’

আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত ও রাজনৈতিকভাবে স্পষ্ট অবস্থানের জন্য পরিচিত জাফর পানাহি তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিজ দেশে বারবার রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন। তাঁর সিনেমা ‘ট্যাক্সি তেহরান’, ‘নো বিয়ারস’ কিংবা ‘দিস ইজ নট আ ফিল্ম’—সবগুলোই যেন ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ, নিপীড়ন এবং রাজনৈতিক রুদ্ধতার বিরুদ্ধে এক দৃঢ় বার্তা বহন করে।

চলতি বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে পাহানির ছবি ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাকসিডেন্ট’ স্বর্ণপাম জেতে। এই সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘ ২২ বছর পর কান উৎসবে ফেরেন তিনি।