জীববৈচিত্র্যনির্ভর চলচ্চিত্রের জন্য আমেরিকার জ্যাকসন ওয়াইল্ড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড বিশ্বখ্যাত। পাকিস্তানের চলচ্চিত্র ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেই মর্যাদাকর পুরস্কার জিতে নিয়েছে দেশটির তথ্যচিত্র ‘মোকলানি: দ্য লাস্ট মোহনাস’।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডনকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাওয়াদ শরীফ ফিল্মস।
তথ্যচিত্রটি পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন নির্মাতা জাওয়াদ শরীফ। জানা যায়, প্রতিযোগিতার জন্য জমাকৃত গোটা বিশ্বের ৫০০টিরও বেশি চলচ্চিত্র থেকে এটি নির্বাচিত হয়েছে। গত ২ অক্টোবর আমেরিকার ওয়াইয়োমিংয়ে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে ‘গ্লোবাল ভয়েসেস’ বিভাগে তথ্যচিত্রটি পুরস্কার লাভ করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্লোবাল ভয়েসেস বিভাগে ছবিটি বিজয়ী হওয়ার আগে ২০০ জনেরও বেশি আন্তর্জাতিক বিচারক ১,০০০ ঘন্টারও বেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী দেখেছেন।
এই তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে পাকিস্তান তথা এশিয়ার বৃহত্তম মনছর হ্রদ অঞ্চলের আদিবাসী জেলে সম্প্রদায় মোহনাদের জীবনের গল্প। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ছবিটি মনছর হ্রদের মোহনাদের গল্প বলে, যাঁরা একটি আদিবাসী জেলে সম্প্রদায়, যাঁদের শতাব্দী প্রাচীন জীবনযাত্রা বিলুপ্তির পথে।’
যোগ করে বলা হয়, ‘ক্রমশ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, বিষাক্ত দূষণ ও অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিলুপ্তির মুখোমুখি মোহনারা।’
পুরস্কারটি মূলত ‘মোহনা সম্প্রদায়ের প্রাপ্তি’ বলে উল্লেখ করেন নির্মাতা জাওয়াদ শরীফ। তিনি বলেন, ‘গল্পটি জলবায়ু পরিবর্তন, সাংস্কৃতিক বিপর্যয় এবং প্রকৃতি ও মানবতা উভয়কেই সংরক্ষণের জরুরি বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে।’
যোগ করে বলেন, ‘বিশ্বমঞ্চে তাঁদের (মোহনা সম্প্রদায়) গল্পকে স্বীকৃতি দেওয়া আবেগাপ্লুত করেছে। এই সম্মান মোহনা সম্প্রদায়ের।’
প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালে জ্যাকসন ওয়াইল্ড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তিত হয়, একসময় যা ‘জ্যাকসন হোল ওয়াইল্ডলাইফ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’ হিসেবে পরিচিত ছিল। এমনকি তা ‘প্রকৃতি ও সংরক্ষণবাদী চলচ্চিত্রের অস্কার’ হিসেবেও বিবেচিত হয়। টেকসই বিশ্ব নির্মাণে অনুপ্রাণিত করে এমন চলচ্চিত্রকে তারা সম্মান জানায়।