কোরিদার ‘শীপ ইন দ্য বক্স’: মৃত্যুশোক প্রকাশে এআই ব্যবহারের উভয়সঙ্কট

মানুষের আবেগগত চাহিদা মেটাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যে ধরনের নৈতিক ও চারিত্রিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হওয়া নতুন চলচ্চিত্র ‘শীপ ইন দ্য বক্স’-এ এমনটাই তুলে ধরতে চেয়েছেন হিরোকাজু কোরিদা। গত রোববার এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

২০১৮ সালে পাম দ’অরজয়ী এই জাপানি নির্মাতা স্মরণ করেন যে, তিনি চীনের একজন উদ্যোক্তা সম্পর্কে পড়েছিলেন, যিনি কিনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে কারও ব্যক্তিত্ব ধারণের কাজ করছিলেন, যেন মৃত্যুর পরও ওই প্রতিকৃতির সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়।

কানের ফটোকলে শিপ ইন দ্য বক্স চলচ্চিত্রের নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা। ছবি: কান চলচ্চিত্র উৎসব

কান উৎসবের সংবাদ সম্মেলনে কোরিদা বলেছিলেন, ‘আমি যা দেখেছিলাম তা খুবই আকর্ষণীয় ছিল, যদিও তা ছিল কিছু ছবি! এই পুনরুজ্জীবিত মৃতব্যক্তিরা আলাপচারিতা চালিয়ে যাচ্ছিল; তারা শুধু অতীতকে পুনরুজ্জীবিত করছিল না, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের সঙ্গেও নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলছিল এবং যৌথ-অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করছিল।’

যোগ করে বলেন, ‘এটি আমার মনে একটি নৈতিক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিল: জীবিতদের পক্ষে মৃতব্যক্তির অস্তিত্বকে নিজেদের ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করা কি সত্যিই গ্রহণযোগ্য?

শীপ ইন দ্য বক্স চলচ্চিত্রটি ওটোনে ও কেনসুকে কোমোতোকে কেন্দ্র করে নির্মিত, যে দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন যথাক্রমে হারুকা আয়াশে ও ডাইগো ইয়ামামোতো। পর্দায় নিজেদের শোক সামলাতে তারা তাদের মৃত ছেলের তথ্য ও স্মৃতি দিয়ে তৈরি একটি হিউম্যানয়েড রোবটের সাহায্য নেয়।

প্রাথমিক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কেটে যায়, যখন দম্পতিটি তাদের ছেলের এআই রোবট সংস্করণটির প্রতি আকৃষ্ট হয়, যা কিনা অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে তাদের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জেনে নেয়! একইসঙ্গে নিজের মতো অন্য একটি রোবটদলের সঙ্গেও বন্ধুত্ব গড়ে তোলে।

নিজের চলচ্চিত্রে এআই’র ব্যবহার প্রসঙ্গে কোরিদা জানান, তিনি শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ভুল থেকে শেখার বিষয়কেও গুরুত্ব দেন।

শিপ ইন দ্য বক্স সিনেমার শুটিংয়ে হিরোকাজু কোরিদার সঙ্গে রিমু কুওয়াকি। ছবি: ফুজি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, কায়িকশ্রমকে অদক্ষতা বা অপচয় হিসেবে না দেখে ক্রমশ এগিয়ে যাওয়ার দৃষ্টিভঙ্গিও চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

কান উৎসবে প্রতিযোগিতা করা কোরিদার ৮ম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র শীপ ইন দ্য বক্স। এর আগে, ২০১৮ সালে পাম দ’অর জিতে নিয়েছিল তাঁর নির্মিত ‘শপলিফটার্স’, অন্যদিকে ২০১৩ সালে জুরি পুরস্কার লাভ করেছিল ‘লাইক ফাদার, লাইক সন’। ২০২৩ সালে কুইয়ার পাম ও সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার জিতে নিয়েছিল ‘মনস্টার’।

নতুন চলচ্চিত্রে শোকাহত মায়ের চরিত্রে অভিনয় করা হারুকা আয়াশে এর আগে কোরিদার ‘আওয়ার লিটল সিস্টার’ চলচ্চিত্রে কাজ করেছিলেন। অন্যদিকে, কমেডিয়ান দাইগো ইয়ামামতো প্রথমবারের মতো কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আর তাদের সন্তানের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রিমু কুওয়াকি, যার বয়স মাত্র ১০ বছর!

‘শীপ ইন দ্য বক্স’ কানের সর্বোচ্চ পুরস্কার পাম দ’অর-এর জন্য লড়াই করা ২২টি চলচ্চিত্রের মধ্যে অন্যতম, আগামী ২৩ মে ঘোষিত হবে এই পুরস্কার।