চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিএফডিসি। সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিপুণ আক্তারের শাস্তির দাবিতে আজ (২২ মে) দুপুর থেকে এফডিসিতে কয়েক দফা হয়েছে মিছিল। এতে অংশ নিয়েছেন বেশ কয়েকজন সিনিয়র ও জুনিয়র শিল্পী। তাঁদের মূলকথা, ‘শিল্প ও শিল্পীর সম্মান নষ্টকারী নির্লজ্জ বেহায়া নিপুণের শাস্তি চাই’।
গত ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। ফল ঘোষণা হয় শনিবার (২০ এপ্রিল) সকালে। এতে শিল্পী সমিতির ভোটে হেরে মনোয়ার হোসেন ডিপজল-মিশা সওদাগরকে মালা দিয়ে বরণ করেও নিয়েছিলেন নিপুণ। মালা বদলের ২৫ দিন পর মিশা-ডিপজল পরিষদ নিয়ে আদালতে রিট করেন নিপুণ।
আদালত জানান, সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে নিপুণের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০ মে এই স্থগিতাদেশ দিয়েছেন বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ। একইসঙ্গে নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির ঘটনা তদন্তের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে শিল্পীদের একাংশ। গুঞ্জন উঠেছে বাতিল হচ্ছে নিপুণের সদস্যপদ। এর সিদ্ধান্ত আসবে আজ (২২ মে) বিকেলে। বেলা ৩টায় এফডিসিতে ১৮ সংগঠনের সঙ্গে শিল্পী সমিতির গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক হবে। এতে স্টার সিনেপ্লেক্সের অনিয়মসহ নিপুণের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত আসবে বলে শোনা যাচ্ছে।
কেউ কেউ বলছেন, এদিন নিপুণকে বয়কটের সিদ্ধান্ত আসবে! তবে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, শিল্পী সমিতির সদস্যরা ছাড়াও নিপুণের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ মন্তব্য করেছেন পরিচালক ও প্রযোজক সমিতির বেশ কয়েকজন নেতা। কথা বলেছেন সিনিয়র শিল্পীরাও। এর মধ্যে সোহেল রানা গতকাল বলেন, ‘গত নির্বাচনের আগ পর্যন্ত কেউ শিল্পী সমিতির অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আদালতে যায়নি। ছোট ছোট যে সমস্যাগুলো হয়েছে, তার সমাধান শিল্পীরাই করেছে। গতবার প্রথম নিপুণ আদালতে গেছে। এবারও তাই করল।’
এই প্রযোজক-নায়ক আরও বলেন, ‘গতবার তার (নিপুণ) সঙ্গে প্যানেলের ১১ জন ছিল। এবার তার প্যানেল থেকে নির্বাচিত হওয়া তিনজন কিন্তু ইতোমধ্যে নতুন কমিটির সঙ্গে বসে মিটিং করেছে। আগের কমিটির মতো আলাদা থাকেনি। এবার আদালতে যাওয়ার বিষয়টি অকল্পনীয়, কল্পনাতীত। শিল্পী সমিতির আদালতের দ্বারস্থ হওয়া শিল্পীদের জন্য লজ্জার।’