জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে গত বছর এই সময় গোটা দেশ ছিল উত্তাল। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর তৎকালীন রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিবর্ষন, দমন-পীড়নের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছিল সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। দিনটি ছিল ১৯ জুলাই, শুক্রবার। সেদিন রাজধানীর ধানমন্ডি সেন্ট্রাল রোডে সংবাদ সংগ্রহের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন সাংবাদিক-আলোকচিত্রী তাহির জামান প্রিয়। তাঁর স্বল্পদৈর্ঘ্য জীবন নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন নির্মাতা রজত তন্ময়। শিরোনাম ‘প্রিয় unknown 30Y’।
ব্যক্তিজীবনে প্রিয় বয়সে ছোট হলেও রজতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অনেকটা বন্ধুর মতো, সহকর্মীও ছিলেন তাঁরা। নির্মাতা বলেন, ‘গত বছরের ১৯ জুলাই থেকে আমার মনে একটা প্রতিজ্ঞা ছিল—প্রিয়র চিন্তা, রাজনৈতিক দর্শন, সুন্দর একটা দেশের স্বপ্ন বারবার সামনে নিয়ে আসব। বলব প্রিয়কে খুন করা হয়েছে। এই খুনের বিচার করতে হবে। প্রিয়দের স্বপ্নের বাংলাদেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে ওর বাচ্চাটা বড় হবে।’
জানা যায়, মৃত্যুকালে প্রিয় তাঁর মেয়ে পদ্মপ্রিয় পারমিতাকে রেখে গেছেন। বর্তমানে সে দাদি সামসি আরা জামানের কাছে বেড়ে উঠছে।
জুলাই-আগস্টের সেই সময়ে হাসপাতাল পরিণত হয়েছিল রীতিমতো মৃত্যু-উপত্যকায়! সেখানে অচিহ্নিত অসংখ্য লাশের ভীড়ে ‘অজ্ঞাত’ হিসেবে যুক্ত হয়েছিল প্রিয়র নামটিও। সেই ঘটনা থেকেই মূলত তথ্যচিত্রটির নামকরণ করা হয়।
রজত তন্ময় বলেন, ‘‘ঢাকা মেডিকেলে প্রিয়র নাম বদলে হয়ে গিয়েছিল ‘Unknown 30y’। কত মানুষ এ দেশে এমন অজানা নম্বরে পরিণত হয়েছে, এখনও হচ্ছে। আমি জানি না এর শেষ কবে হবে, শুধু বুঝি এসবের শেষ হইতে হবে।’’
প্রিয় unknown 30Y’র চিত্রগ্রহণ করেছেন ইমরুল হাসান মিয়া ও রাহুল রায়। সম্পাদনা করেছেন ইমামুল বাকের এ্যপোলো। প্রযোজনায় রয়েছেন বরকত হোসেন পলাশ ও সৈয়দা নীলিমা দোলা।
আজ ১৯ জুলাই তাহির জামান প্রিয়কে হারানোর দিনে বন্ধুরা তাঁর স্মরণে তথ্যচিত্রটির দুটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। রাজধানী ঢাকার দৃকপাঠ ভবনের ৮ তলার গ্যালারিতে সন্ধ্যা ৭টায় একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া প্রিয়র জন্মস্থান রংপুরে আরও একটি প্রদর্শনী রয়েছে। রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে তথ্যচিত্রটি প্রদর্শিত হবে। প্রদর্শনী দুটি সবার জন্য উন্মুক্ত।