চিত্রগ্রাহক-নির্মাতা আব্দুল লতিফ বাচ্চু মারা গেছেন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক আব্দুল লতিফ বাচ্চু আর নেই। রোববার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন এই গুণী চিত্রগ্রাহক। উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের জুলাই মাসে তাঁকে দেশের বাইরেও নেওয়া হয়েছিল। পরে দেশে ফিরিয়ে আনার পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও রোববার সন্ধ্যায় তাঁর শরীরে অস্ত্রোপচারের কথা ছিল। তবে অস্ত্রোপচারের আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাঁর শ্যালক ও দেশের আরেক প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন বুলু। তিনি জানান, ‘ফুসফুসে সংক্রমণ ছাড়াও তাঁর ডায়াবেটিস ও কিডনির জটিলতা ছিল। সকাল থেকেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। দ্রুত তাঁকে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা জানান, সাড়ে বারোটায় তিনি মারা গেছেন।’

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল লতিফ বাচ্চুর তিন ছেলে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। তাঁদের দেশে ফেরা পর্যন্ত মরদেহ হিমঘরে রাখা হবে। পরে দাফনের সময় ও স্থান চূড়ান্ত করা হবে।

১৯৪২ সালের ৯ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল লতিফ বাচ্চু। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই তিনি চলচ্চিত্রে চিত্রগ্রহণের কাজে যুক্ত হন। ক্যারিয়ারের শুরুতে সহকারী চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেন তিনি। ‘আলোর পিপাসা’, ‘আগন্তুক’, ‘দর্পচূর্ণ’সহ একাধিক ছবিতে কিংবদন্তি চিত্রগ্রাহক সাধন রায়ের সহকারী হিসেবে কাজ করার মধ্য দিয়ে তাঁর পথচলা শুরু।

১৯৬৮ সালে ‘রূপকুমারী’ সিনেমার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ চিত্রগ্রাহক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। স্বাধীনতার পর চিত্রা জহির প্রযোজিত ও কাজী জহির পরিচালিত ‘অবুঝ মন’ সিনেমায় কাজ করেন। পরে ‘বলবান’ ছবির মাধ্যমে পরিচালনায় নাম লেখান তিনি।

পরিচালক হিসেবেও আব্দুল লতিফ বাচ্চুর অবদান উল্লেখযোগ্য। ‘যাদুর বাঁশি’, ‘দ্বীপকন্যা’, ‘নতুন বউ’, ‘মি. মাওলা’, ‘প্রতারক’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন তিনি।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ৬৫টি সিনেমায় পূর্ণাঙ্গ চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন এবং প্রায় ৯টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র গ্রাহক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) পুরস্কারের পাশাপাশি চ্যানেল আই প্রবর্তিত ‘ফজলুল হক স্মৃতি’ পুরস্কারেও ভূষিত হন তিনি।