ফলস সিলিং থেকে গ্রেপ্তার হওয়া সেই ব্যবসায়ীর সঙ্গে জড়িয়েছে নাম, ‘ভুয়া’ দাবি নায়িকা ববির

সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় চাকরি দেওয়া, ব্যবসায় বিনিয়োগ, গাড়ি কেনাবেচা এবং কোরবানির গরু কেনার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিটিএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মির্জা আবুল বাশারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আল আমিন হোসাইন। এদিকে, মির্জা আবুল বাশার গ্রেপ্তার হওয়ার পর খবরের শিরোনামে জড়িয়েছে চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববির নাম। এসব খবরের শিরোনামে বলা হয়, মির্জা আবুল বাশার নাকি চিত্রনায়িকা ববির ‌‘কথিত স্বামী’! তবে গতকাল রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নায়িকার দাবি করেছেন যে, ‘কথিত স্বামী’র বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর ভাষ্য, বিয়ের মতো পবিত্র সম্পর্কে জড়ালে তিনি নিজেই বিষয়টি জানাবেন।

ফেসবুক পোস্টে ববি লিখেছেন, ‌‘‘শনিবার বিকেল থেকে ব্যবসায়ী মির্জা আবুল বাশারকে কেন্দ্র করে আমাকে নিয়ে বেশকিছু গণমাধ্যম চটকদার সংবাদ প্রকাশ করেছে। সেখানে বাশারের সঙ্গে জড়িয়ে কোথাও ‘কথিত স্ত্রী’, কোথাও ‘স্ত্রী’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।’

যোগ করে তিনি বলেন, ‘মূলত ভিউ বাণিজ্য ও আমার সম্মানহানি করতেই একটি কুচক্রী মহল এ কাজ করছে। তবে দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের প্রতি আমার আস্থা রয়েছে।’  

ববি। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

পোস্টে ভুয়া সংবাদ প্রকাশের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ববি। তিনি বলেন, ‘আমাকে হেয় করার জন্য যেসব গণমাধ্যম ভুয়া খবর ছড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’

সবশেষে এই নায়িকা বলেন, ‘আমাকে আপনারা দীর্ঘদিন ধরে চেনেন, যদি বিয়ে নামের পবিত্র সম্পর্কে জড়িয়ে থাকি, সেটি অবশ্যই আমি নিজ থেকে সামনে আনাব।’

চিত্রনায়িকা ববিকে সবশেষ দেখা গেছে গত ঈদুল আজহায় মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তছনছ’ সিনেমায়। যেখানে তাঁর নায়ক ছিলেন মুন্না খান।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাতে গুলশানের একটি বাসায় দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে বাথরুমের ফলস সিলিং থেকে ব্যবসায়ী মির্জা আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আল আমিন হোসাইন জানান, গাড়ি কেনাবেচার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর আবুল বাশারের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলা হয়। বিভিন্ন সময় তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলেও তিনি বারবার স্থান পরিবর্তন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। অবশেষে গুলশান থানা পুলিশের একটি দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গুলশান-১ এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে।