১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মান জাহাজ থেকে বোমাবর্ষণ করা হয় ডানজিগ বন্দরের অদূরে এক উপদ্বীপে পোলিশ অবস্থানের ওপর৷ তার অল্প পরে প্রায় দেড় লক্ষ জার্মান সেনা সীমান্ত অতিক্রম করে ঢুকে পড়ে পোল্যান্ডে৷ শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ৷ পাল্টে যায় বিশ্ব, ইতিহাস মোড় নেয় নতুন দিকে৷ এই যুদ্ধকে সিনেমার পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে বারবার। পৃথিবী জুড়ে এমন সব দুর্দান্ত সিনেমার কথাই জানাব আজ—
সেভিং প্রাইভেট রায়ান (১৯৯৮)
সিনেমাপ্রেমীরা ইতিমধ্যেই অনেকেই এই ছবিটির সাথে পরিচিত। নর্ম্যান্ডি দখলের ঘটনাপ্রবাহের সাথে সাথে যুদ্ধের সহিংসতাকে তুলে ধরা হয়েছে এতে। ১৯৪৪ সালের ৬ জুন থেকে ১৩ জুন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এই আট দিনের ঘটনাকে পুরো সিনেমায় বর্ণনা করেছেন বিখ্যাত পরিচালক স্পিলবার্গ। ইতিহাস ও বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, তার জন্য কিছু তেতো সত্য বলতেও দ্বিধা করেননি। ফলে সেভিং প্রাইভেট রায়ান স্বীকৃতি পেয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলোর একটি হিসেবে।
দা টুয়েলভথ ম্যান (২০১৭)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে৷ নরওয়ে চলে গেছে নাৎসি জার্মানির অধীনে। অপারেশন রেড মার্টিন নামের এক বিশেষ অভিযানে ১২ নরওয়েজিয়ান মুক্তিযোদ্ধাদের পাঠানো হয় নরওয়েতে। ব্রিটিশরা এদের প্রশিক্ষণ দেয়। কিন্তু নিরাপত্তা দুর্বলতায় ১২জনকে বহন করা নৌকাটি গেস্টাপো অফিসাররা ধরে ফেলে। ১১জনকে ধরতে পারলেও এদের মধ্যে জ্যান বালস্রুদ নামের একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাকে ধরতে এক চিরুনি অভিযানে নামে জার্মান বাহিনী। তীব্র হিমশীতল পানি আর বৈরি আবহাওয়ার সাথে পেছনে থাকা জার্মান সৈন্যদের হাত থেকে পালিয়ে বেড়ানোর এক মহাকাব্যিক গল্প জুড়ে সিনেমাটি টানটান উত্তেজনায় ভরপুর। জ্যান বালস্রুদ কি সফল হয়? তা জানতে হলে মুভিটির বাকি অংশ দেখতে হবে। মুভিটির আইএমডিবি রেটিং ৭.৪।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে। সে যুদ্ধে কোন বন্দুক ছাড়াই ৭৫ জন আমেরিকান সৈন্যকে বাঁচিয়ে এনে আমেরিকার বিখ্যাত সামরিক পদক মেডেল অব অনার প্রাপ্ত হয়েছিলেন ডেসমন্ড থমাস ডস নামের এক কমব্যাট মেডিক। তার দুঃসাহসী এই কাজের ওপরই ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে হলিউডের অন্যতম সেরা ওয়ার মুভি হেকসো রিজ। মুভিটিতে ডেসমন্ড ডস চরিত্রে ছিলেন স্পাইডার ম্যান এন্ড্রু গারফিল্ড। মুভিটি পরিচালনা করেছেন মেল গিবসন।আইএমডিবি রেটিং ৮.৪।
ডেভিড লিনের পরিচালিত ১৯৫৭ সালের একটি ব্রিটিশ-মার্কিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চলচ্চিত্র এটি। ১৯৫২ সালে পিয়ের বুলের রচিত ফরাসি উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। জাপানি ক্যাম্পে একদল যুদ্ধবন্দিকে দিয়ে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করেন এক ব্রিটিশ কর্নেল। কর্নেল চান তার এই কাজ স্মরণীয় হয়ে থাকুক, কিন্তু তার সফলতার পথে চক্রান্ত এবং শেষ দৃশ্যের নাটকীয় ব্যর্থতা এই ছবিটিকে অদ্বিতীয় করেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চলচ্চিত্রের প্রসঙ্গ সামনে আসলেই রবার্তো বেনিনির এই অস্কারজয়ী ছবিটির কথা বলতে হয়। নাৎসি বাহিনীর হাতে পরিবারসমেত ধরা পড়ার পরেও এক ইতালিয়ান বাবা চায় তার ছেলেকে যুদ্ধের এই নির্মম সত্য থেকে দূরে রাখতে; নৃশংসতার বদলে তাকে দেখাতে চায় এক স্বাধীন ও সুন্দর পৃথিবী।
আটলান্টিক মহাসাগরে একটি জার্মান ইউ-বোটের টিকে থাকার লড়াই নিয়ে পরিচালক উলফগ্যাং পিটারসন নির্মিত এই চলচ্চিত্র দর্শককে সমুদ্রের বুকে যুদ্ধটা কেমন ছিল তা দেখার সুযোগ করে দিবে। সাবমেরিন নিয়ে যুদ্ধ করার টান টান উত্তেজনা, সাবমেরিনে আটকে যাওয়ার ভয়, সাহসী প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা এসব কিছু দেখতে পাওয়া যায় এই ছবিটিতে।
মুভিটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সত্য কাহিনি অবলম্বনে তৈরি করা। সিপ্লতসম্যান (এড্রিয়েন ব্রোডি) নামে মেধাবী একজন পিয়ানো বাদক ও ইহুদির জীবন সংগ্রামের কাহিনি ফুটে উঠেছে এই ছবিতে। পরিচালক রোমান পোলানস্কির নির্মিত সবচেয়ে সেরা মুভির একটি এটি।
এই সিনেমায় ‘ওয়্যারডেডি’ সৈনিকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ব্র্যাড পিট। পরিচালক ডেভিড আয়ার সিনেমায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন দারুণ নিপুণতায়।