সব রেকর্ড গুঁড়িয়ে দিচ্ছে স্পাইডার-ম্যান

মুক্তির পর থেকেই যেন থামার নাম নেই। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস লিখছে টম হল্যান্ড অভিনীত ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। মাত্র ছয় দিনেই বিশ্বব্যাপী ছবিটির আয় ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, যা সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম অর্জন।

সনি ও মার্ভেলের এই সুপারহিরো সিনেমায় চতুর্থবারের মতো স্পাইডার-ম্যান হয়ে ফিরেছেন টম হল্যান্ড। ১০০ কোটি ডলারের ঘরে এত দ্রুত পৌঁছানোর নজির এর আগে ছিল শুধু ২০১৯ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর, যা মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই প্রায় ১২০ কোটি ডলার আয় করেছিল।

শুধু বিশ্বব্যাপী নয়, উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসেও ঝড় তুলেছে ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’। মুক্তির চার দিনের মাথায় ছবিটির আয় দাঁড়িয়েছে ৪০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এর মধ্য দিয়ে উত্তর আমেরিকায় সবচেয়ে দ্রুত ৪০০ মিলিয়ন ডলার আয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে সিনেমাটি। শুধু তাই নয়, সোমবার একদিনেই ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় করে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সোমবারের আয়ের রেকর্ডও নিজেদের করে নিয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালের ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ৪ কোটি ডলার আয় করে এই রেকর্ডের মালিক ছিল। আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও এসেছে ৬৪ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।

মুক্তির প্রথম সপ্তাহ থেকেই রেকর্ডের পর রেকর্ড ভাঙছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে উত্তর আমেরিকায় ৩৬ কোটি ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ৯৩ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করে এটি দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের সিনেমায় পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ডও গড়েছে। প্রিভিউ শো থেকে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং মুক্তির প্রথম দিনেই ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ডলার আয় করে আরও দুটি নতুন রেকর্ড নিজেদের ঝুলিতে তুলেছে ছবিটি।

দর্শকদের উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া আর সামনে বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিশ্লেষকদের ধারণা, খুব দ্রুতই ছবিটি ২০০ কোটি ডলারের মাইলফলকও স্পর্শ করবে। এখন পর্যন্ত মাত্র সাতটি সিনেমা এই ক্লাবে নাম লিখিয়েছে। তাই অনেকেরই ধারণা, প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন শেষ হওয়ার আগেই সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমাগুলোর তালিকায় জায়গা করে নেবে ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’।

মার্ভেল স্টুডিওসের সভাপতি ও প্রযোজক কেভিন ফাইগি বলেন, ‌‌‌‘‘আমি কখনো ভাবিনি ‘এন্ডগেম’-এর উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড ভাঙা সম্ভব হবে। কিন্তু আমাদের মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের ৩৮তম সিনেমাই সেটি করে দেখিয়েছে। সোমবার সকালে এই অবস্থানে নিজেদের দেখতে পেরে আমি সত্যিই অভিভূত।’’

তিনি জানান, ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’র এই দুর্দান্ত সাফল্য আগামী ডিসেম্বরে মুক্তি পেতে যাওয়া ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’র জন্যও ইতিবাচক বার্তা। সেই ছবিতে একসঙ্গে ফিরবেন মার্ভেলের একাধিক সুপারহিরো। আর সবচেয়ে বড় চমক, রবার্ট ডাউনি জুনিয়র এবার আয়রন ম্যান নয়, খলনায়ক ডক্টর ডুমের ভূমিকায় হাজির হবেন।

কেভিন ফাইগির কথায়, ‘যখন একটি শেয়ার্ড ইউনিভার্স ঠিকভাবে কাজ করে, তখন ফলাফল এমনই হয়।’

চলতি বছরে ১০০ কোটি ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করা এটি চতুর্থ সিনেমা। এর আগে ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’, ‘মাইকেল’ এবং ‘টয় স্টোরি ৫’ এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে। অন্যদিকে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ ইতোমধ্যেই ৯১ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করেছে। খুব শিগগিরই সেটিও ১০০ কোটি ডলারের ক্লাবে যোগ দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৬ সাল এখনই হলিউডের জন্য স্মরণীয় এক বছর হয়ে উঠেছে। এখনও আগস্ট শেষ হয়নি, অথচ মহামারির পর সবচেয়ে বেশি ১০০ কোটি ডলার আয় করা সিনেমা এসেছে এ বছরই। ২০১৯ সালে রেকর্ড নয়টি সিনেমা এই ক্লাবে জায়গা করে নিয়েছিল। এরপর কোনো বছরই তিনটির বেশি সিনেমা এই মাইলফলক ছুঁতে পারেনি।

বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ এবং ‘দ্য ওডিসি’র দাপট অব্যাহত থাকলে উত্তর আমেরিকায় গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের টিকিট বিক্রি আবারও ৪০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বছরের শেষ দিকে ‘ডিউন ৩’ এবং ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’র মতো বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা মুক্তি পেলে ২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকার মোট বক্স অফিস আয় ১ হাজার কোটি ডলার অতিক্রম করার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।