আজ ১৮ অক্টোবর। রক মিউজিক শ্রোতাদের কাছে দিনটি বিষাদের। কারণ, পাঁচ বছর আগে ২০১৮ সালের এই দিনেই চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন কিংবদন্তি রকস্টার আইয়ুব বাচ্চু। কথা, সুর আর গিটারের ঝংকারে যিনি সংগীতাঙ্গন মাতিয়ে রেখেছিলেন প্রায় চার দশক। ক্যারিয়ারে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী গান। জানা গেছে, অপ্রকাশিত রয়েছে তাঁর আরও ২০০’র মতো গান; যেগুলো ধীরে ধীরে মুক্তি পাবে।
বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন এই গুণীর সহধর্মিনী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা। তিনি জানান, প্রায় ২০০টি গান প্রস্তুত রেখে গেছেন আইয়ুব বাচ্চু। সেগুলো এক এক করে প্রকাশ করবেন। তাঁর মধ্যে কিছু গান নতুন আয়োজনে তরুণ শিল্পীদের কণ্ঠেও প্রকাশ পাবে।
এদিকে, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে নামীদামি ব্র্যান্ডের প্রিয় গিটার সংগ্রহ করে গেছেন প্রয়াত রকস্টার আইয়ুব বাচ্চু। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত ‘ফেন্ডার স্টাটোকাস্টার’, আইভানেজের ‘জেম সেভেনটি সেভেন’সহ ৫০টির মতো গিটার নিয়ে যাত্রা শুরু করছে ‘আইয়ুব বাচ্চু মিউজিয়াম’।
কিংবদন্তির প্রয়াণের পর থেকেই তাঁর স্মৃতিবিজড়িত গিটার ও এবি কিচেনের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, ব্যবহৃত ক্যাপ, টি-শার্ট নিয়ে একটি মিউজিয়াম তৈরির স্বপ্ন লালন করে আসছিল আইয়ুব বাচ্চুর পরিবার ও আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন। এবার সেই স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে এসেছে এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ।
মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিক ইএক্সপি’র সঙ্গে এবি কিচেনের একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। আইয়ুব বাচ্চু স্ত্রী চন্দনা বলেন, ‘তিনি বেঁচে থাকাকালীন গিটারগুলো এবি কিচেনে ছিল। এখন স্টুডিও নেই; মানুষটাই তো নেই। তাই গিটারগুলো বাড়িতেই রেখেছি। যথাসম্ভব যত্নে রাখার চেষ্টা করছি। ইতোপূর্বে কিছু গিটার নিয়ে প্রদর্শনী হয়েছে। আগামীতেও হবে। তাঁর রেখে যাওয়া গিটার এবং অন্যান্য সংগীত সামগ্রী নিয়ে একটি জাদুঘর তৈরি করা হবে। এছাড়া আগামী বছর থেকে ধারবাহিকভাবে তাঁর স্মরণে বিভিন্ন কনসার্টের আয়োজনও করা হবে। এসব নিয়ে এশিয়াটিকের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, রকস্টার আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া কালজয়ী গানগুলোর মধ্যে ‘চলো বদলে যাই’, ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’, ‘কেউ সুখী নয়’, ‘ফেরারি এই মনটা আমার’, ‘একদিন ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘বাংলাদেশ’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘এখন অনেক রাত’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।