ওটিটির দুনিয়ায় বেশ কিছুদিন ধরেই একের পর এক আলোচিত কনটেন্ট তৈরি করছেন বাংলাদেশের পরিচালকেরা। শুধু সিজন ওয়ান বানিয়েই ক্ষান্ত থাকছেন না তাঁরা। বানাচ্ছেন পরবর্তী সিজনও। এই যেমন কিছুদিন আগেই আলোচিত ওয়েব সিরিজ কারাগার-এর দ্বিতীয় সিজন মুক্তি পেল। কিন্তু ২ নম্বর সিজনে এসে কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলেছিল কারাগার। আর ঠিক সেই জায়গাতেই কিস্তিমাত করেছে মহানগর ২। ২ নম্বরের দুনিয়ায় মহানগর ২ কি তবে ১ নম্বর?
এই প্রশ্নের উত্তরটি না হয় সবার শেষে থাক। কয়েক ঘণ্টা আগে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই-এ মুক্তি পেয়েছে মহানগর ২। আগের সিজনের মতো এবারের সিজনটিও বানিয়েছেন গুণী নির্মাতা আশফাক নিপুন। প্রোটাগনিস্ট ক্যারেক্টারে আছেন সেই মোশাররফ করিম ওরফে ওসি হারুনই। প্রথম সিজনে অপরাধের অভিযোগে এক ধনকুবেরকে আদালতে চালান করে দিয়ে ধরা খেয়ে গিয়েছিলেন ওসি হারুন। চালান হয়ে গিয়েছিলেন নিজেই। সেখান থেকেই এবার দ্বিতীয় সিজনের সূচনা।
মহানগর ২ এর পোস্টার। ছবি: হইচই এর ফেসবুক পেজের সৌজন্যে
মহানগরের দ্বিতীয় সিজনের শুরুতেই ওসি হারুন নিজেকে আবিষ্কার করেন অজ্ঞাত স্থানে। জেরা করতে আসেন দুই অফিসার। শুরু হয় জেরা, একদম শুরু থেকেই। আর শুরুতে যেতে গিয়েই চলে আসে ওসি হারুনের অতীত। সেখান থেকেই শুরু হয় ভিন্ন এক গল্প। হইচই সে সম্পর্কে বলেছে, ‘শাখারীপুর থানায় ফেলে আসা হারুনের পুরোনো দিনের কর্মফল নিয়তির তাড়নায় ফিরে এসেছে কিছু অপ্রতিরোধ্য ঘটনাসমূহ ও অনিবার্য চরিত্রের আনাগোনার মধ্য দিয়ে। তবে কি পুরোনো পাপ হারুনের পতন অনিবার্য করে তুলবে?’
পতন হবে কি হবে না– সে বিষয়ে দর্শকেরা জানতে পারবেন সিরিজের সিজন টু-এর শেষ পর্বের ক্লাইম্যাক্সে গিয়ে। এক কথায় বলা যায়, মহানগর সিজন টু-এর ক্ল্যাইম্যাক্স নাটকীয়তায় ছাড়িয়ে গেছে সিজন ওয়ানকেও। এমনকি এ দেশে এখন পর্যন্ত যত ওয়েব সিরিজের সিজন টু তৈরি হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে মহানগর দুই নির্দ্বিধায় এক নম্বরে। ভবিষ্যতে যেসব ওয়েব সিরিজের সিজন টু তৈরি হবে, সেগুলোর জন্যও সার্থক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে মহানগর দুই। গল্প, চিত্রনাট্য, চরিত্রের বিন্যাস ও সার্বিক পরিচালনা– সবকিছুতেই আগের সিজনকে ছাড়িয়ে গেছে মহানগর দুই। অন্তত এখন আমরা বলতে পারব যে, এ দেশেও ওটিটির জন্য সার্থক ওয়েব সিরিজ নির্মাণ সম্ভব, যার সিজন ওয়ানের চেয়েও সিজন টু দেখতে ভালো লাগবে বেশি। আর এ জন্য মহানগরের নির্মাতা আশফাক নিপুনকে দিতেই হয় টুপি খোলা কুর্নিশ।
মহানগর ২ ওয়েব সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা মোশাররফ করিম। ছবি: হইচই এর ফেসবুক পেজের সৌজন্যে
মহানগরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এই সিরিজটি প্রচণ্ড প্রাসঙ্গিক। সময়কে ধরে রাখার হিসাবটি কড়ায়-গণ্ডায় মিটিয়েছেন নির্মাতা নিপুন। প্রথম সিজনেই এই বৈশিষ্ট্য পাওয়া গিয়েছিল বটে। সিরিজে দেখানো প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে একজন দর্শক নিজেকে মেলাতে পারবেন নিমেষেই। কারণ পত্রিকার পাতা থেকে জানা ঘটনাকেই যে ভিন্ন আঙ্গিকে পর্দায় দেখা যাবে! নাম-পরিচয়ে যতই ভিন্নতা থাকুক আপনি বুঝে যাবেন কেন বলা হলো, ‘টাকলার স্বভাব আর ভালো হইলো না’!
এবার আসা যাক অভিনয় প্রসঙ্গে। ওসি হারুন কে, সেটি আর নতুন করে বলার কিছু নেই। সম্ভবত মোশাররফ করিমের অন্যতম সেরা অভিনয় দেখা গেছে মহানগর দুইয়ে। সিজন টু-এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্রেফ কাঁপিয়ে দিয়েছেন তিনি। যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন জেরা করা অফিসারের চরিত্রে থাকা ফজলুর রহমান বাবু। রাজনীতিবিদ ও মহানগরের মেয়রের ভূমিকায় আফসানা মিমি নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেছেন। ধনকুবের আফনান চৌধুরীর চরিত্রে শ্যামল মাওলা এবং ডিবি অফিসার সুকুমার বড়ুয়া হিসেবে বৃন্দাবন দাসের তুলনা মেলা ভার। একটি ইঙ্গিত দিয়ে রাখা যাক। সিজন টু-এর ক্ল্যাইম্যাক্সে বৃন্দাবন দাসের ভূমিকা বিশাল। তাঁর মাধ্যমেই যে সৃষ্টি হয় মহানগরের গল্পের নতুন মোড়।
মহানগর ২ ওয়েব সিরিজের কিছু দৃশ্য। ছবি: হইচই এর ফেসবুক পেজের সৌজন্যে
শেষটায় দুর্দান্ত চমক রয়েছে মহানগর ২-এ। দুই বাংলা এক হয়েছে দুই নম্বর মহানগরে। কীভাবে? সেটি আসলে পর্দায় দেখে নেওয়াই ভালো। ওটিই তো মূল চমক!
এবার শিরোনামের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাক। ২ নম্বর সিজনের দুনিয়ায় বাংলাদেশি ওটিটি কনটেন্ট হিসেবে মহানগর কি ১ নম্বর? সোজা ভাষায় উত্তর, অবশ্যই। নতুন রাজা না আসা পর্যন্ত দুই নম্বরের দুনিয়ায় মহানগরই এক নম্বর!
আর দর্শক, দুটি কথা ভুলে যাবেন না। মহানগরের দ্বিতীয় সিজন বলে দিয়েছে, ওসি হারুন এত সহজে হারে না। এবং দ্বিতীয় কথাটি হলো, খেলা শেষ হয় নাই। অর্থাৎ, মহানগরের তৃতীয় সিজন দেখার আশা আমরা করতেই পারি। মহানগর দুই কিন্তু বুঝিয়ে দিয়েছে, সিজন একাধিক হলেও খেলা হবে!