সারা দেশে সুপারশপে আজ (১ অক্টোবর) থেকে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ হলো। সরেজমিনে তদারকিতে প্রশাসনের সাথে মাঠে থাকছে শিক্ষার্থীরা। ২২ বছরেও পলিথিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না হওয়ায় কঠোর অবস্থানে অন্তর্বর্তী সরকার।
বিকল্প হিসেবে পাট ও কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন পরিবেশবিদরা। পচনশীল ও তরল পণ্য বহনে পানিরোধক ব্যাগ বাজারজাতের তাগিদ তাদের।
মুদিদোকান থেকে কাঁচাবাজার, মাছ-মাংস, শাক-সবজি, ফল–সব খানেই বিক্রির পর পলিথিন ব্যাগে দেওয়া হচ্ছে পণ্য।
বাদ নেই সুপার শপগুলো। পলিথিনে সয়লাব পুরো বাজার ব্যবস্থা। ২০০২ সালের ১ মার্চ পলিথিন নিষিদ্ধ করা হলেও তা কার্যকরে ছিলনা কোনো উদ্যোগ। এবার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এসব ব্যাগের ব্যবহার বন্ধে কঠোর অবস্থানে অন্তর্বর্তী সরকার।
তবে পলিথিন ব্যাগের বিকল্প কী? এক্ষেত্রে পাট ও কাপড়ের ব্যাগের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন পরিবেশবিদরা। কাগজের ঠোঙ্গাও হতে পারে হালকা ও শুকনো পণ্য বহনে বিকল্প।
এ ব্যাপারে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ও পচনশীল পাট, কাপড়, কাগজ কিংবা অন্য কোনো ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি ব্যাগ সহজলভ্য করতে হবে। মানুষ যাতে চাইলেই এটি পায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে।’
তবে তরল ও পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে পানি নিরোধক ব্যাগ। এ বিষয়ে নতুন উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে রয়েছে সফলতার সম্ভাবনা। পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী আবদুস সোবহান বলেন, ‘যারা বোতলজাত পণ্য কেনেন, পরবর্তীতে কীভাবে রিসাইকেল করবেন এবং সংগ্রহ করবেন, সে ব্যাপার নিয়েও কাজ করা যায়।’
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন বাপার তথ্য বলছে, শুধু ঢাকাতেই প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার হচ্ছে। আর দেশে সরকারি হিসাবে, প্রতিদিন প্লাস্টিক বর্জ্য হচ্ছে ২৪ হাজার টন।