চট্টগ্রামে কেইপিজেড সরিয়ে নয়, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের সুপারিশ গবেষকদের

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (কেইপিজেড) হাতি চলাচলের করিডোর। তাই সেখান থেকে সরিয়ে নয়, সেখানে রেখেই এসব বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের সুপারিশ গবেষকদের। তাঁরা বলছেন, কেইপিজিড করার সময় পরিবেশগত সমীক্ষা প্রকাশ হয়নি। এর ৫২ ভাগ এলাকা বন্যপ্রাণীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে আনোয়ারা উপজেলা। সেখানেই গড়ে উঠেছে কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন-কেইপিজেড। পাহাড়ি বনের দুই হাজার ৪৯২ একর এলাকার ১ হাজার একরজুড়ে এর অবস্থান। এ জায়গাটি ছিল চুনতি ও বাঁশখালীর হাতি চলাচলের করিডোর। তবে শিল্পাঞ্চল হওয়ায় সেখানে আটকে পড়ে ৪টি হাতি। এতে গত কয়েক বছরে মানুষের সঙ্গে বেড়েছে দ্বন্দ্ব, ঝড়েছে কিছু প্রাণও।

কেইপিজেড করার আগে পরিবেশ সমীক্ষায় বলা হয়, বনভূমির ৩৩ ভাগে সবুজায়ন ও ১৯ ভাগ থাকবে মুক্তবনাঞ্চ। যেখানে অবাধে বিচরণ করবে হাতির দল। তবে সম্প্রতি সেখানে উজার হচ্ছে বন।

চট্টগ্রাম বন বিভাগের বন সংরক্ষক মোল্ল্যা রেজাউল করিম বলেন, ‘পরিবেশ পরিস্থিতিকে উনারা কো এক্সিসটেন্স বা একসাথে চিন্তা করছেন না। উনারা শুধুমাত্র তাদের বাণিজ্যিক বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের বাইরে যেতে চাচ্ছেন না।’

কেইপিজিড এর ৫২ ভাগ এলাকা বন্যপ্রাণীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনমোল্ল্যা রেজাউল করিম আরও বলেন, ‘ইআই এর রিপোর্ট তারা ডিসক্লোজ করতে চান নাই। আমি অনেববার ওনাদের সাথে যোগাযোগ করেছি, চিঠি দিয়েছি, কিন্তু করেননি।’

এখনই এই হাতিদেরই সরিয়ে নিতে বলছে কেইপিজেড ও স্থানীয়রা। তবে গবেষকেরা বলছেন, হাতির বসতিতেই হয়েছে শিল্পাঞ্চল। সংকুচিত বিচরণ ভূমি ও খাবার সংকটেই বাড়ছে মানুষের সঙ্গে সংঘাত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফিরোজ জামান বলেন, ‘কেন হাতির আবাসযোগ্য স্থানে প্রতিষ্ঠানটি করা হলো! তার মানে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হয়নি। সল্ট লিকিংয়ের জন্য যদি আমরা কিছু সল্ট আধার কিছু তৈরি করে দিতে পারি তাহলে সমাধান অনেকটা সম্ভব। পাশাপাশি হাতিরা যেসব খাবার খাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় বিচরণ করার চেষ্টা করে, সেই খাবারগুলো ওর মধ্যে দিতে পারি তাহলে হাতি ক্ষতি করবে না।’ 

বন্যপ্রাণী গবেষক ড. রেজা খান বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যে সিস্টেম আছে সেটা যদি তড়িৎ বেগে দেওয়া যায়, তাহলে মানুষ অনেকটা প্রশমিত থাকবে। তারা জানবেন যে, আমার সম্পদের ক্ষতি হলে সরকার এটা পূরণ করে দেবেন।’

এদিকে কেইপিজেডের হাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে ১১ সদস্যের বিশেষজ্ঞ টিম করেছে সরকার। তারা দিয়েছে স্থানান্তর না করে খাবারের সংকট মিটিয়ে ক্যামেরা ও জিপিএস ট্র্যাকিংয়ে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ।