১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাকৃতিক বিপর্যয় ‘সুপার এল নিনো’র কবলে পড়তে যাচ্ছে বিশ্ববাসী। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, আগামী বছরের শেষ নাগাদ আঘাত হানবে এই দুর্যোগ। ফলে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত প্রায় ৫ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়বে। খরার কারণে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়েও খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রার অস্বাভাবিক পরিবর্তন তথা এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে দেখা দিতে শুরু করেছে আবহাওয়ায় বিপর্যয়। ডব্লিউএফপির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছর এই প্রকোপ আরও তীব্র হয়ে সুপার এল নিনো সৃষ্টির আশঙ্কা প্রায় ৮১ শতাংশ। যার ফলে বিশ্বজুড়ে অনাহারে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ২৭ কোটি ৪০ লাখে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের সুপার এল নিনোর কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১৯৮২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলো। কেবল এই দুই অঞ্চলেই অতিরিক্ত ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার শিকার হবেন। যার মধ্যে মধ্য আমেরিকায় প্রায় ৮৩ শতাংশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত খাদ্যসংকট বাড়তে পারে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘এল নিনো ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে, যা উত্তপ্ত পৃথিবীতে আরও আগুন ঢেলে দিচ্ছে। এই হুমকি ভবিষ্যতের জন্য নয়, এটি বর্তমান সময়ের জন্য। আমরা যদি এখন থেকেই সংকটের মোকাবিলায় পদক্ষেপ না নিই, তবে ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবিলার কোনো সামর্থ্যই আমাদের থাকবে না।’
ডব্লিউএফপির আশঙ্কা, এল নিনোর প্রভাবে পূর্ব আফ্রিকা, সাহেল, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কিছু অংশে ভয়াবহ অনাবৃষ্টি দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে সোমালিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে দেখা দিতে পারে তীব্র বন্যার ঝুঁকি। এ ছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়েও খরার কারণে শস্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এল নিনোর চরম ঝুঁকিতে থাকা ৪৫টি দেশের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাসমূহকে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে ডব্লিউএফপি।