এল-নিনোর প্রভাব: বর্ষার আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন

এবার বর্ষা মৌসুমে দেখা দিয়েছে আবহাওয়ার ব্যাপক তারতম্য। বর্ষার ধারাবাহিকতাও ছিল অস্বাভাবিক। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি ছিল অনেক কম। বয়ে গেছে তাপপ্রবাহও। আবার পার্বত্য এলাকায় কয়েক দিন টানা অতিভারী বৃষ্টি আর ঢলে হয়েছে ভূমিধস ও বন্যা। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এল-নিনোর প্রভাবে বৃষ্টির চরিত্র এবার অস্বাভাবিক। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চরমভাবাপন্ন থাকতে পারে আবহাওয়া।

তাপপ্রবাহের মাস এপ্রিলে এবার স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৬ ভাগ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। আর বর্ষার শুরু হিসেবে পরিচিত জুনে, স্বাভাবিকের তুলনায় ২৯ ভাগ কম বৃষ্টি ঝরেছে। 

একই সময়ে তিন দফায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০ থেকে ১২ দিন তাপপ্রবাহে অতিষ্ট ছিল জনজীবন। তবে জুলাইয়ের শুরু থেকে বর্ষা ফিরেছে পরিচিত রূপে।

জুলাই মাসে দেশে স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাত ৪৫৭ মিলিমিটার। অথচ বৃষ্টি হয়েছে ৬৬৬ মিলিমিটার। যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩৫ দশমিক ৬ ভাগ বেশি। ময়মনসিংহ, রাজশাহী বিভাগে বৃষ্টিপাত প্রায় স্বাভাবিক ছিল। দেশের বাকি বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল বেশি। সবচেয়ে বেশি বিচ্যুতি দেখা গেছে খুলনা বিভাগে। যেখানে স্বাভাবিকের তুলনায় ৫৩ ভাগ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রামে ৫ থেকে ১২ জুলাই, প্রায় সাড়ে ১৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়; যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৫১ শতাংশ বেশি। ঢাকা ও সিলেটেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়।

জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘এল নিনোর প্রভাবে চরমভাপন্ন হবে আগস্ট মাসও। এক থেকে দুইটি মৃদু অথবা মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।’ 

এদিকে, বন্যপূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেটে বৃষ্টি হচ্ছে। তিস্তা ও কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপরে বইছে। আগামী কয়েকদিন ব্রহ্মপুত্র, যমুনার পানিও বাড়তে পারে।