অনিয়ন্ত্রিত শিল্পকারখানার কালো ধোঁয়া আর বিষাক্ত বর্জ্যে বিপর্যস্ত ময়মনসিংহের ভালুকার পরিবেশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ কারখানাগুলো আইন ও নিয়ম না মানায় হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। পরিবেশের এমন বির্পযয়ে ব্যাহত হচ্ছে এলাকার কৃষি উৎপাদনও।
ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা জানান, ভালুকার ঢোবালিয়া পাড়ায় চিমনীর বিষাক্ত কালো ধোঁয়ার সঙ্গে কারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকর রাসায়নিক বিষিয়ে তুলছে আশপাশের পরিবেশ। নষ্ট হচ্ছে জমির আমন ধান ও ও অন্যান্য ফসল। সিসা গলিয়ে ব্যাটারি কারখানার অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্যে শুধু পরিবেশ নয় নষ্ট হচ্ছে ঘরবাড়িও।
এলাকার অধিকাংশ কারখানাই মানছে না সরকারের নির্দেশনার। শোধনাগার ব্যবহার না করে অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য ফেলছে খাল-বিল ও জলাশয়ে। তবে দূষণের বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে নারাজ কর্তৃপক্ষ।
ময়মনসিংহ পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক শেখ মো. নাজমুল হুদা জানান, কারখানায় ইটিপির ব্যবহারসহ ছাড়পত্রের শর্ত পূরণের বিষয়ে তদারকি করা হবে।
এদিকে পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে শিশুরা। আক্রান্ত হচ্ছে নানা শ্বাসকষ্টজনিত ও চর্মরোগে।
পরিবেশ রক্ষায় এবং ফসল রক্ষায় সরকারকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। অনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়নে ভালুকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিলেও, ধ্বংসের মুখে কৃষি ও প্রকৃতি। তবে এই উন্নয়ন কতটা টেকসই সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।