বাতাসে আদ্রতা বেড়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে দশ ভাগ। দিন ও রাতের তাপমাত্রা এক থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তি। তাই অক্টোবরে এবার রাতে অসহনীয় গরম অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, নভেম্বরের শেষে শীত শুরু হবে। তবে এবার খুব বেশি শৈতপ্রবাহ নাও হতে পারে। আর কমতে পারে শীতের স্থায়ীত্ব।
সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে ঝুঁকছে.... চলছে দক্ষিণায়ন। দিন ছোট হয়ে দীর্ঘ হচ্ছে রাত। শীতের বার্তা নিয়ে আসে অক্টোবর। তবে এবার চিত্র একটু ভিন্ন। সকাল ৮টা থেকে বেলা বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা। দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে।
রাজধানীর এক রিকশাওয়ালা বলেন, ‘এই গরমে আমাদের ইনকাম কম। কিন্তু কম হইলেও তো আমাদের রিকশা চালাইতে হয়।’
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এ সময় দিনে স্বাভাবিক গড় তাপমাত্রা থাকে ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু এবার তা ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রি। রাতের স্বাভাবিক তাপামাত্রা ১৮ থেকে ২৪ ডিগ্রি হলেও এবার ২০ থেকে ২৭ ডিগ্রি থাকছে। অক্টোবরে বাতাসের স্বাভাবিক আদ্রতাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।
জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড.আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘জলীয় বাষ্প এখনো ৫৫ থেকে ৬৫ ভাগ স্টেশনভেদে ওঠানামা করে। সুতরাং এই বাড়তি জলীয় বাষ্প, অর্থাৎ দুপুর বেলার জলীয় বাষ্প গরমের অনুভূতিকে বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার কারণে দিনের বেলা সূর্যের আলোর প্রাপ্যতাও বেড়ে গেছে।’
কদিন পর শুরু হবে উত্তুরে বাতাস। আবাহাওয়া অফিস বলছে, নভেম্বরের শেষ দিকে শীত শুরু হবে। তবে এবার খুব বেশি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা কম। শীতের স্থায়ীত্বও কম হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ড.আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘নভেম্বরের শেষের দিকেই শীতের আগমনী বার্তা শুরু হবে। সবই ঠিক থাকবে। তবে এবার শীতের স্থায়ীত্বকালে একটু ব্যত্যয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের পরিমাণ ও দিনসংখ্যা অনেকটাই কমে আসতে পারে।’
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অক্টোবরের শেষ দিকে বঙ্গোপসাগরে আরো দুটি লঘু চাপ তৈরি হতে পারে। যার একটি রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে।