বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সৃষ্টির শঙ্কা, রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে

বঙ্গোপসাগরে আজ একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তীতে এটি আরও ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপ বা ঘুর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তারা বলছে, এটি বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানবে কি না তা জানতে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে। নিম্নচাপের প্রভাবে রোববার থেকে উপকূলে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। 

অক্টোবরে সূর্যের দক্ষিণায়ণে বঙ্গোপসাগরে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। সাগরে সৃষ্টি করে লঘুচাপ। যা কোন কোনও সময় তীব্র শক্তিশালী হয়ে নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। 

এ বছরও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হচ্ছে। যা শক্তিশালী হয়ে নিম্নচাপে রূপ নেয়ার আশংকা আবহাওয়া অধিদপ্তরের। 

জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড.আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে অক্টোবর মাসে যদি ঘুর্ণিঝড় তৈরি হয়, সেটি প্রলয়ংকরী ঘুর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এই লঘুচাপটি শক্তিমত্তা অর্জন করবে। শুরুতেই সে পশ্চিমদিকে দাবিত হবে এবং উত্তর–পশ্চিমদিকে ধাবিত হবে। কোন পথে সে উপকূল অতিক্রম করবে, তার শক্তিমত্তা বা তীব্রতা কেমন হবে– এটি নিম্নচাপ হওয়ার পর বোঝা যায়।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পুর্বাভাস বলছে, লঘু চাপের প্রভাবে ২৫ অ্ক্টোবর থেকে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি  হতে পারে। 

জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড.আবুল কালাম মল্লিক আরও বলেন, ‘২৫ অক্টোবরের পর থেকে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তীতে সারা বাংলাদেশে কেমন বৃষ্টিপাত হবে এর প্রভাবে কী ধরনের বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে সেটি এই লঘুচাপের শক্তি মাত্রার ওপর নির্ভর করে।’

গত পাঁচ দশকে এ সময় বঙ্গোপসাগরে ৬৪ ঘুর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে। যার ১৩টি বাংলাদেশের উপকূলে সরাসরি আঘাত হেনেছে। সবশেষ ২০২৩ সালের অক্টোবরে তীব্র ঘূর্ণিঝড় হামুন বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। এর আগে ২০২২ এর অক্টোবরে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর আঘাতের চিহ্ন এখনও রয়ে গেছে সেন্টমার্টিনে।