আজ বিশ্ব শহর দিবস। পৃথিবীর বাসযোগ্য ১৭৩টি শহরের মধ্যে রাজধানী ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। গবেষকরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সামাজিক নিরাপত্তার অভাব, পরিবেশ দূষণ ও অপরিকল্পিত নগরায়নে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে এই শহর। রাজউকের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা আর ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান- ড্যাপ বাস্তবায়নে সব পর্যায়ের অনীহা, আধুনিক ঢাকা গড়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা বলে মনে করেন তারা।
ইতিহাসবিদদের হিসাবে, নগর হিসেবে ঢাকার বয়স ৪০০ বছরেরও বেশি। তবে অনেকেই মনে করেন বুড়িগঙ্গার তীর ধরে গড়ে ওঠা এই সভ্যতার ইতিহাস আরও প্রাচীন।
'পুরান ঢাকা' থেকে আজকের বহুতল ভবন, উড়াল সড়ক, মেট্ররেল ও মেগাপ্রজেক্টের 'তিলোত্তমা ঢাকা'। দিনে দিনে বেড়েছে শহরের পরিধি ও চাকচিক্য। কিন্তু তারপরও প্রতিবছরই বিশ্বের অবাসযোগ্য শহরের তালিকায় সবার শীর্ষে থাকছে এই শহর।
দুই কোটিরও বেশি মানুষের চাপ সামলাতে ঢাকার আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ অবকাঠামো একেবারেই অপ্রতুল। ভূগর্ভস্থ গ্যাস লাইনের লিকেজের কারণে প্রতিনিয়ত বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া, অতিরিক্ত ব্যবহারে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। যা দীর্ঘমেয়াদে শহরের অস্তিত্বের জন্য হুমকি।
নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোয় জননিরাপত্তা নিয়ে রয়েছে অস্বস্তি। চকবাজার, নিমতলীর ভয়াবহ সব ট্রাজেডির পরও আবাসিক এলাকায় রয়ে গেছে প্রায় ২৫,০০০ ছোট-বড় রাসায়নিক গুদাম আর প্লাস্টিক কারখানা। অন্যদিকে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণে প্রতিনিয়ত নীরবে প্রাণ যাচ্ছে অনেকের।
আইপিডি নির্বাহী পরিচালক ড.আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘সরু গলির পুরান ঢাকা থেকে শুরু করে মিরপুর, উত্তরা ,বাড্ডার নতুন আবাসন- সবখানেই অপরিকল্পিত-অদূরদর্শী নগরায়ণ। এজন্য রাজউকের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও ড্যাপ-এর সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়া দায়ী।’
স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, ‘আধুনিক ও টেকসই মেগাসিটির জন্য সুশাসন ও পরিবেশ সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন নাগরিক চেতনার বিকাশ।’